হামে শিশুমৃত্যু বাড়ছে : টিকা দেওয়া শিশু কেন হামে আক্রান্ত ?

# কার্যকর পদক্ষেপ নিন #
সম্প্রতি হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। টিকা দেওয়া শিশুরও হাম হচ্ছে যা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল। প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ হাম। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই সফলভাবে পরিচালিত হওয়ার কারণে হামে মৃত্যুর ঘটনা প্রায় ছিল না বললেই চলে। আক্রান্তের ঘটনাও ছিল নগণ্য। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় রোগটি আবার মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি হিসাবে গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১৩ হাজার ৪৯৭ জন শিশু। এর মধ্যে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে আট হাজার ৯১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৩৮ জনের। সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে। কারণ রোগটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামাঞ্চল, এমনকি শহরেও অনেকে বাড়িতেই রোগের চিকিৎসা করায়। তা ছাড়া ছোটখাটো অনেক ক্লিনিকেও চিকিৎসা হয়, যার হিসাব সরকারি পরিসংখ্যানে আসে না। দৈনিক প্রবাহে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৩৪৫ জন শিশু হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে হাম শনাক্তকৃত রোগী ১৬৮ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নেওয়া রোগী এক হাজার ১৭৭ জন। তাদের মধ্যে ৬৫৯ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সময়ে চারজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। সাধারণত রোগীর হাঁচি-কাশি থেকে রোগের জীবাণু ছড়ায়। তাই স্কুল হোক, বাড়ি হোক বা হাসপাতাল হোক, সর্বত্রই শিশুদের আলাদা রাখা প্রয়োজন। কারণ আক্রান্ত শিশু লক্ষণ প্রকাশের আগে থেকেই রোগ সংক্রমণ করতে থাকে। আর হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া, এনকেফালাইটিস ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দেয় বলে লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজন হলে হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। একসময় যেখানে ৯৭-৯৮ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় ছিল, সেখানে তা কমে ৬০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তাই ব্যাপক হারে টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যেতে হবে, যাতে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা যায়। হাসপাতালগুলোতে হাম চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন হাম না থাকায় অনেক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর বাস্তব অভিজ্ঞতা কমে গেছে। তাই তাঁদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। শত শত শিশুর করুণ মৃত্যু মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। আমরা চাই, এই মৃত্যু রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
