জাতীয় সংবাদ

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ আর নেই

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আকসির এম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার দুপুরে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আগামীকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টেসহ দুইদফা জানাজা শেষে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে দাফন করা হবে। ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া তিনি সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। যে কারণে ভেস্তে গেল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে বিশ্বের নজর ছিল ইসলামাবাদে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ম্যারাথন আলোচনা চলেছে। এটি ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে রোববার সকালে আলোচনা শেষে কোনো সমঝোতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, আলোচনা অচল হয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য বেশি খারাপ খবর। ভ্যান্স আরও বলেন, ‘আমরা একটি খুবই সরল প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছিÑএটাই আমাদের চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব। এখন দেখা যাক, ইরান তা গ্রহণ করে কি না।’ তিনি জানান, ২০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা আলোচনার পুরো সময়জুড়ে তাদের প্রতিনিধিদল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিল। এর আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক, এতে তার ‘কিছু যায় আসে না’। তিনি তখন মায়ামিতে একটি আল্টিমেট ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ ইভেন্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর অনুযায়ী, ভ্যান্স যখন ইসলামাবাদে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ট্রাম্প তখন সেই ইভেন্টে ফাইটিং দেখছিলেন। আলোচনায় মূল মতপার্থক্য ছিল হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দাবি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগে অস্বীকৃতি নিয়ে। এই দুই বিষয়ই চুক্তির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বা দ্রুত তা তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করবে না, এটাই আলোচনার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি যতটুকুই থাকুক আগের সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো, ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সত্যিকারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কি না। আমরা এখনো তা দেখিনি, তবে আশা করছি দেখব।’ অন্যদিকে ইরান মনে করছে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের। বার্তা সংস্থা তাসনিম এক সূত্রের বরাতে জানায়, তেহরান আলোচনায় ‘যৌক্তিক প্রস্তাব’ দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘যৌক্তিক’ চুক্তিতে সম্মত না হলে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। পরবর্তী দফা আলোচনার তারিখ বা স্থান এখনো নির্ধারণ হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্য এক্সে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা ও ইচ্ছা রয়েছে, কিন্তু পূর্বের দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিপক্ষের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই দফা আলোচনায় প্রতিপক্ষ শেষ পর্যন্ত ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, মাত্র এক দফা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার আশা করা অবাস্তব ছিল। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংঘাত ও গভীর অবিশ্বাসের মধ্যেই এই আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে সমঝোতা হলেও দুই-তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বাগাই আরও বলেন, অগ্রগতি নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থের স্বীকৃতির ওপর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কূটনীতি কখনো শেষ হয় না এবং পাকিস্তানসহ বন্ধু ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দুই পক্ষের কাজ করা জরুরি এবং পাকিস্তান সংলাপ সহজ করতে ভূমিকা চালিয়ে যাবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং দুই পক্ষকে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, ‘এখনো কোনো অগ্রগতি বা টেকসই সমাধান না আসাটা অবশ্যই হতাশাজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘কূটনীতিতে এমনই, সফল না হওয়া পর্যন্ত আপনি ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই এই আলোচনা সফল না হলেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব কমে না।’ ইমরান মোল্লা মিডল ইস্ট আই-এর যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক সংবাদদাতা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button