স্থানীয় সংবাদ

মোড়েলগঞ্জে হামলা ভাংচুর লুটপাটের ঘটনায় আসামীদের গ্রেফতার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার হয়নি

# ডিআইজিসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ মোড়েলগঞ্জের দক্ষিণ চিংড়িখালি গ্রামে গত ২ জানুয়ারী সকালে প্রতিপেক্ষর হামলা ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি। উল্টো আসামীরা বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে এলাকায় প্রবাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে বাদীর অভিযোগ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খুলনা ডিআইজিসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগ উল্লেখ করা হয়, “আমি ফুলজাহান বেগম (৭০) খুবই নিরীহ, বৃদ্ধা, জনবলহীন ও অবলা রানী। আসামী আমজাদ, মনিররা অত্র এলাকার ভয়ানক দুর্দান্ত, দাঙ্গাবাজ, উৎশৃংখল পরসম্পদলোভী প্রকৃতির লোক। আমরা জনবলহীনতার সুযোগে আমার স্বত্বদখলীয় বসত ঘরের দক্ষিন পাশে পুকুর সংলগ্ন একটি ভিটা সম্পত্তি আসামীরা হামলা ও গন্ডগোল সৃষ্টি করে আসছে। পূর্ব শত্রুতার জের হিসাবে গত ২ জানুয়ারী’২৬ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ১নং আসামীর নেতৃত্বে আসামীরা দলবদ্ধ হয়ে অবৈধ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের স্বত্ব দখলীয় বসত ঘরের দক্ষিন পাশে পুকুর সংলগ্ন একটি ভিটা সম্পত্তি (কৃষি ক্ষেতে) অনাধীকার প্রবেশ করতঃ উক্ত বাগান হতে ৬ কাইন চিনিচাপা কলা যার মূল্য ৪২শ’ টাকা এবং কৃষি ক্ষেত হতে কাচা হলুদ যার মূল্য ৬ হাজার টাকা, তা আসামীরা জোর পূর্বক কৃষি ক্ষেত হতে নিয়ে যায় এবং ক্ষেত হতে আরও অন্যান্য কৃষি ক্ষয়ক্ষতিসহ নিয়ে যেতে থাকাকালে উক্ত বিষয়টি দেখে আমার ব্যবহৃত মোবাইল থেকে আসামীদের উক্ত রূপ কৃত কার্যকলাপ ভিডিও করতে থাকাকালে ক্ষিপ্ত হয়ে অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় ১নং আসামী অঙ্কু আমজাদ শিকদার থাবা মেরে আমার ব্যবহৃত মোবাইল যার মূল্য ১৯ হাজার টাকা জোর পূর্বক নিয়ে যায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায় ১নং আসামী অঙ্কু ওরফে আমজাদ শিকদার আমার পেটের বাম পাশে স্বজোরে ঘুষি মারলে আমি মুমূর্ষ হয়ে লুটায়ে পড়ি। এসময় অন্যান্য আসামীরা আমাকে ঘিরে ফেলে এবং প্রকাশ্যে জীবন নাশের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে এবং আমার পায়ের শির রগ কেটে দিবে বলে শাসায়। উল্লেখ্য যে, উক্ত ঘটনার কিছু দিন পূর্বে আমার ৪টি হাঁস নিয়ে যায়। এছাড়াও আসামীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার নির্যাতন ও জোর জুলুম করে আসতে থাকে। ঘটনার সময় আমার চিৎকারে আশপাশের বহু লোকজন ঘটনাস্থলে আসে এবং আমাকে উদ্ধার করে। উক্ত বিষয়টি ৯৯৯ নম্বর মোবাইল ফোন করলে পোলেরহাট পুলিশ ক্যাম্প হতে পুলিশ ঐ সময় ঘটনাস্থলে গেলেও আমার মোবাইলটি উদ্ধার করে না দেওয়ায় ও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় উক্ত বিষয়ে গত ৪ জানুয়ারী আমি বাদী হইয়া মোরেলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। ”এরই মধ্যে ১১ এপ্রিল ঢাকা ডিবি পুলিশ মোবাইলটি উদ্ধার করে আসামীকে পোলেরহাট ফাড়ির ইনচার্জ এসআই বদরুজ্জামানের নিকট হস্তানস্তর করে। পুলিশ উদ্ধারকৃত মোবাইলটি ফেরৎ দিলেও গ্রেফতারকৃত আসামীকে ছেড়ে দেয় বলে বাদীর অভিযোগ। তিনি বলেন, আসামী আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আসামীদের হুমকি ধামকিতে মংলা কাস্টমে কর্মরত তার ছেলে সৈয়দ বাহাদুর আতংকের মধ্য দিয়ে অফিসে যাতায়াত করছেন বলে বাদীর অভিযোগ। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বদরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি মূলত জমিজমা। এখানে থানা পুলিশের কোন কাজ নেই। মারামারির ঘটনায় মামলা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। আর ডিবি পুলিশ মোবাইল উদ্ধার করে তাকে দেয়। তিনি প্রমাণ সাপেক্ষে বাদীকে মোবাইল ফেরৎ দেন। এখানে কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button