স্থানীয় সংবাদ

নগরীর হেরাজ মার্কেট মসজিদে ইমামকে অপসারণকে ঘিরে সংঘর্ষ : মুসল্লিরা আহত

ব্যাপক উত্তেজনা-বিক্ষোভ, পুলিশ মোতায়েন

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনার হেরাজ মার্কেট জামে মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে অপসারণ এবং নতুন ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একাধিক মুসল্লি আহত হন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মসজিদের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে মসজিদ ও মার্কেট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নারী ঘটিত অভিযোগের জেরে মসজিদ কমিটি বর্তমান ইমাম মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে অপসারণ এবং নতুন ইমাম নিয়োগের চেষ্টা করে। কিন্তু ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন ধরণের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপসারণের বিপক্ষে ছিলেন মসল্লিদের একাংশ। বিষয়টি নিয়ে দু’ পক্ষ বিরোধে জড়ালে ঘটনার সূত্রপাত হয়। ঘটনার সময় ইমাম পরিষদের পক্ষ থেকে নেতৃত্বে ছিলেন জেলা সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া এবং মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে নেতৃত্বে ছিলেন রিয়াজ উদ্দিন সুজা।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুসল্লি ও দোকানদাররা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা খুলনা সদর থানা ঘেরাও করেন। বিক্ষোভকারীরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং কিছু সময় হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
মুসল্লিদের দাবি, কমিটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করছে এবং মসজিদের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সদর থানা পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে।
অপরদিকে, এ মামলা নিয়ে ইমাম পরিষদের সন্দেহ রয়েছে। তাদের ভাষ্য ইমামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করলে আমাদের কোনো অভিযোগ থাকবে না। ইমাম পরিষদ ওই ইমামকে মসজিদে রাখার কথা বললেও মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ জানায় তারা মসজিদের মুয়াজ্জিনের পেছনে নামাজ পড়লেও তার পেছনে নামাজ পড়বে না। সন্ধ্যায় ইমাম মসজিদে গেলে মার্কেট কমিটির সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে আব্দুল হামিদসহ বেশ কয়েকন মুসল্লি আহত হন।
বিক্ষোভকারীরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইমাম পরিষদের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আপাতত ইমাম নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মুয়াজ্জিন ইমামের দায়িত্ব পালন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button