গাজীপুরে বাড়ির দরজা ভেঙ্গে পিস্তল ঠেকিয়ে ইমামের মেয়েকে অপহরণ

মেয়েটি বাবাকে আকঁড়ে ধরে “আব্বু আমাকে হেফাজত
করো বলে কান্নাকাটি করলেও রক্ষা করতে পারেনি বাবা”
৪৮ঘন্টায়ও উদ্ধার হয়নি ভিকটিম
অভিযুক্তরা ছাত্রদলের ক্যাডার বলে অভিযোগ করলেন ইমাম
৭জন গ্রেফতার হলেও মুলহোতা আবিদ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে
প্রবাহ রিপোর্ট ঃ গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় ইমামের মেয়েকে অপহরণের যে খবরটি ছড়িয়েছে, তা একটি ভয়াবহ ঘটনা। স্থানীয় গণমাধ্যম ও ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ৩০-৪০ জন দুর্বৃত্ত দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ইমামের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারী ইমামের নাম হাদিউল ইসলাম। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকার বায়তুল মুত্তাকী জামে মসজিদের ইমাম। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে তার অপহরণকৃত কণ্যা সন্তানকে উদ্ধারের জন্য মিডিয়া, প্রশাসন, পৌর বিএনপির’র সভাপতি থেকে শুরু করে সবার কাছে কাকুতি মিনতি করতে থাকেন। ঘটনায় মামলা হয়েছে। ৭জন মত গ্রেফতার হলেও মুল আসামী অপহরণকারী আবিদ রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ঘটনাটি গাজীপুর থানার ওসি, ওসি তদন্ত, পুলিশ সুপারকে অবহিত করলেও ইমামের মেয়েটি এখনো জীবিত আছে কি না তা জানতে পারছেন না কেউ।
মেয়েটির পিতা হাদিউল ইসলাম জানান, বাংলা নববর্ষের দিন তার মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে যায় আবিদ। পরে স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় একদিন পর মেয়েটিকে উদ্ধার করে বাসায় আনতে না আনতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা আবিদের নের্তৃত্বে ইমামের ভাড়া বাসার গ্রীলে তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মেয়েকে জোর পূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে উঠিয়ে নিয়ে যায়। মেয়েটি তার বাবাকে আকঁড়ে ধরে কান্না কাটি করে “আব্বু আমাকে হেফাজত করো। আব্বু ।” মেয়ের তারা বাবার সে ক্রন্দনে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা এলাকা।
অভিযোগকারী ইমাম জানান, তার কন্যা সন্তানের বয়স এখন ১৬ বছর। তাকে উত্যক্ত করে পাশে বাড়ির এক তেল ব্যবসায়ীর ছেলে আবিদ, তার সহযোগি সৌমেন ও বাপ্পী। বাপ্পী মূল পরিকল্পনাকারী বলে তার বাবাকে জানান ভিকটিম। ঘটনার স্থান: গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকা। অভিযোগ: ৩০-৪০ জন দুর্বৃত্ত দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।
ভয়ভীতি প্রদর্শন : ইমামের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলা ও লুটপাট: পরিবারে হামলা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ। পুলিশি ব্যবস্থা: মামলার ও ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা বা ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা: স্থানীয়রা এই ঘটনায় ছাত্রদল জড়িত বলে দাবি করছেন।
এ ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার শ্রীপুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এখনো মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং ওই মেয়েকেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার আবিদ (২১) দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অপহরণের হুমকি দিতেন। ১৪ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিসসংলগ্ন এলাকা থেকে আবিদ ও তাঁর সহযোগীরা প্রথমে তাকে অপহরণ করেন। এরপর তাকে উদ্ধার করা হয়।
ওই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সালিস বৈঠক চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তখনই আবিদ ও তাঁর সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালান, দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করেন এবং ওই ছাত্রীকে পুনরায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। এ সময় মারধর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও ভিকটিমকে উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনদুপুরে একটি মসজিদের ইমামের মেয়েকে অপহরণ, পরিবারের সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা এবং লুটপাটের ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘটনা আমাকে গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। দুঃখজনকভাবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে না পারা চরম উদ্বেগজনক। আমি অবিলম্বে অপহৃত মেয়েটিকে অক্ষত উদ্ধার, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। যাদের ছত্রচ্ছায়ায় এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে, সামাজিকভাবে এদের বয়কট করতে হবে এবং দেশবাসীকে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে। বিশেষভাবে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়ে কোনোভাবেই এ ধরনের বর্বরতা চলতে দেওয়া যায় না।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মূল আসামি ও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



