স্থানীয় সংবাদ

সুন্দরবনে সাত বনদস্যু বাহিনীর ভয়ে বন্ধ মধু সংগ্রহ

# নিরাপত্তা নেই মৌয়ালদের #
# চরম লোকসানী সংকট ও আতঙ্কে সুন্দরবনের মৌয়ালরা #

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ঃ সুন্দরবনে শুরু হওয়া মধু আহরণ মৌসুম এবার বনদস্যু আতঙ্কে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ১ এপ্রিল মধু সংগ্রহের মৌসুম শুরু হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এখনো স্বাভাবিকভাবে বনে যেতে পারছেন না অধিকাংশ মৌয়াল। বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন পেশাদার মৌয়াল থাকলেও গত ১৭ দিনে মাত্র ৪২টি নৌকায় ২৭৬ জন মধু সংগ্রহে সুন্দরবনে গেছেন। অন্যদিকে বহু নৌকার মৌয়ালরা দস্যুদের চাঁদা দাবি ও অপহরণ আতঙ্কে প্রস্তুতি নিয়েও বনে যেতে পারেননি। মৌয়ালদের অভিযোগ, করিম-শরিফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, আসাবুর, ছোট জাহাঙ্গীর ও জোনাবÑএই সাতটি বনদস্যু বাহিনীর তৎপরতার কারণে নিরাপদে মধু আহরণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, প্রতি নৌকা থেকে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে, যা না দিলে অপহরণ ও নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে অনেক মৌয়াল লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেও এবার সুন্দরবনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে তাদের জীবিকা যেমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তেমনি মধু ও মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শরণখোলা রেঞ্জের ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বলেন, এবার মৌয়ালদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর মধু আহরণে অংশগ্রহণ অনেক কম।
চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, এ রেঞ্জ থেকে প্রথম ১৭ দিনে ৩১টি নৌকায় ২০১ জন মৌয়াল গেছেন, তবে দস্যুদের চাঁদা দাবির কারণে কয়েকটি নৌকা মাঝপথ থেকে ফিরে এসেছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এ বছর মোট ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু ও ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং দলবদ্ধভাবে বনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও দস্যু আতঙ্কে পুরো মৌসুমে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button