হেরাজ মার্কেট মসজিদ ইস্যুতে ইমাম পরিষদের বিবৃতি

খবর বিজ্ঞপ্তি : খুলনার হেরাজ মার্কেট জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন নিউজপোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ এবং পরবর্তী অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। পরিষদের সভাপতি আলহাজ মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গোলাম কিবরিয়া যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একজন সম্মানিত আলেমকে ঘিরে কিছু ব্যক্তির অতি উৎসাহী আচরণ অতীতের ন্যায় আলেম-ওলামাদের হয়রানির সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হেরাজ মার্কেট জামে মসজিদ সংশ্লিষ্ট ঘটনার পাশাপাশি খুলনা জেলা ইমাম পরিষদকেও লক্ষ্য করে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, মসজিদের ইমামকে ঘিরে প্রকাশিত একটি ভিডিওর বিষয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ইমাম পরিষদকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। সে অনুযায়ী পরিষদ একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ওই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর এবং মসজিদ কমিটিকে অবহিত করার লক্ষ্যে শনিবার আসরের নামাজের সময় পরিষদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মসজিদে উপস্থিত হন। তারা নামাজ আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা নাজমুস সাকিব পিন্টুর মায়ের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। এ সময় পিন্টু ইমাম পরিষদের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করলে উপস্থিত মুসল্লিরা তার প্রতিবাদ জানান। এতে মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে ধাক্কাধাক্কি ও সাময়িক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে, যা পরিষদ দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছে।
তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইমাম পরিষদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যে চেষ্টা চলছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে ইমাম পরিষদকে কোনো পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে ঘিরে প্রচারিত ভিডিও বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনসমূহ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রত্যাশা করেছে পরিষদ। বিবৃতিতে দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করা হয়, কেউ কোন অন্যায় বা অপকর্মের সাথে সত্যিই জড়িত থাকলে ইমাম পরিষদ তার পক্ষ নেবেনা। কিন্তু কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলে পরিষদ সেসব ষড়যন্ত্রকারীদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করবে।



