গরম আর বিদ্যুতের লুকোচুরিতে অতিষ্ঠ নগরবাসীর প্রাণ

# গ্রীষ্মের অগ্নিদহনে জ্বলছে প্রাণীকূল ! #
# খুৃলনা বিভাগের সর্ব্বোচ তাপমাত্রা যশোরে ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস #
# বিদ্যুৎতের লুকোচুরি, নাভিশ^াস তুলছে খেটে খাওয়া মানুষ #
মো. আশিকুর রহমান ঃ গ্রীষ্মের অসহনীয় গরম আর চোখ রাঙনো রোদের উত্তাপে ওষ্ঠাগত হচ্ছে প্রাণ। অসহনীয় অগ্নিদহনে নাজেহাল হচ্ছে জীব ও প্রকৃতি। দিনে মাথার উপর সূর্যের প্রখরতা ও উত্তাপে সারা শরীরে যেন আগুন পুড়ে যাচ্ছে, এরপর আবার অসহ্য গরমে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎতের ঘনঘন লুকোচুরি বা বিড়ম্বনা। দিন-রাত জুড়ে বিদ্যুৎতের বিড়ম্বনা এই গরমের অনুভূতিকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। তীব্র গরমে স্বস্তি মিলছেনা ঘরে-বাইরে কোথাও। গরমে কাহিল হয়ে পড়ছে পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষ করে দিনমুজুর, খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ আরো বেশি নাভিশ^াস তুলছেন। অসহনীয় এই গরমে তারা যেন শ্বাস তুলতে পারছেনা, এক কথায় মরার পড়ে খাড়ার ঘাঁ। তবু তাদের পরিবারের আহার যোগাতে তীব্র গরম উপেক্ষা করে চালিয়ে যাচ্ছে জীবন যুদ্ধ। গরমের হাত সাথে সাময়িক মুক্তি পেতে অনেকেই গাছের নীচে শুয়ে-বসে থাকছেন, পিপাসা মেটাতে অনেকেই ঠান্ডা শরবত বা পানীয় পান করছেন। গরম হতে মুক্তি পেতে দুপুরে গড়াতেই উঠতি বয়সী তরুনেরা ঝাঁপ দিচ্ছে পুকুর বা নদীর জলে। তীব্র গরমে কাহিল হয়ে পড়া প্রাণীকূল আকাশের পানে তাকিয়ে, কখন ঝড়ঝড় করে নামবে স্বস্তির বৃষ্টি। খুলনা আবহাওয়া অফিস বলছে- বৃষ্টিপাতের পরিমান কম থাকার দরুন বেশি গরমের অনুভূত হচ্ছে। যার দরুন তাপমাত্রাও বাড়ছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) খুলনা বিভাগের সর্ব্বোচ তাপমাত্রা ছিল খুলনায় ৩৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস, মোংলায় ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, সাতক্ষীরায় ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, যশোরে ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস, চুয়াডাঙ্গা ৩৬.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, কুমারখালী ৩৬.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস ও কয়রায় ৩৪.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। খুলনাতে আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সামান্য করে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তবে আগামী ২৩ ও ২৪ এপ্রিলের পর আকাশ আশিংক মেঘলা থাকতে পারে। আগামী ২৪ এপ্রিলের পর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে, বৃষ্টিপাত হলে তাপমাত্রা ও গরম কমে আসবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মের উত্তাপ্ত রোদের উত্তাপে পড়ে ছুটে কর্মব্যস্ত নগরবাসী, পথচারী, বিভিন্ন গাড়ীর চালকেরা, পেশাজীবি-দিনমজুর, নি¤œআয়ের, স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের হাফিয়ে উঠতে দেখা গেছে। অনেক পোষ্য প্রানী গরম সইতে না পেরে আশপাশের ড্রেন বা জলাশয়ে নেমে পড়েছে। পথচারীসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা তৃষ্ণা মেটাতে সড়কের পাশের ঠান্ডা আাখের রস, লেবুর শরবত বা ঠান্ডা পানীয় পান করতে দেখা গেছে। স্থানীয় এলাকায় বাসিন্দাদের ঘর ছেড়ে গাছের ছায়ায় মাদুর পেতে শুয়ে-বসে থাকতে দেখা গেছে। তাছাড়া শরীরকে শীতল করতে সর্বশ্রেনীর ও বয়সের মানুষদের পুকুর ও নদীর জলে ঝাঁপ দিতে দেখা গেছে। গরমে পড়ে কাহিল হওয়া মানুষগুলো শীতলের পরশ খুঁজতে স্বস্তির বৃষ্টির জন্য আকাশের পানে চেয়ে আছে। দিনমজুর ইব্রাহিম জানান, ৪ সদস্য নিয়ে আমার পরিবার। আমার আয়ের উপর দিয়েই সংসার চলে। আমি রাজমিস্ত্রীর হেলপারের কাজ করি। কয়েকদিন ধরে এতো গরম পড়ছে যে কাজে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এতো গরমে কি আর কাজ করা যায়? তবুও অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজ করছি। বিশেষ করে গতকাল এতো গরম লেগেছে যে, কাজ রেখে বাড়ীতে চলে আসছি। রিক্সাচালক মনির জানান, গরমে গাড়ী চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে বাইরে এতো রোদ যে এমনিতেই শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। শরীরে দরদর করে ঘাম ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই কি করবো গাড়ি তো চালাতেই তবে। কারণ প্রতিদিনের সংসার খরচ, ছেলে-মেয়ের লেখা পড়ার খরচ জোগাড় করতে হবে। তবে গরমে জীবন বের হয়ে যাচ্ছে। গৃহিনী সিগ্ধা রহমান জানান, ২/৩ ধরে খুব গরম পড়ছে। বাইরে প্রচুর রোদ আর ঘরে ভেতরে ভ্যাপসা গরম। ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তি পাচ্ছি না। তাছাড়া কিছুক্ষন পর পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে ভোগান্তি আরো বাড়ছে। এই গরম থেকে মুক্তি পেতে একমাত্র বৃষ্টির বিকল্প কিছু নেই। চা-বিক্রেতা জামাল জানান, বাইরে রোদের উত্তাপ, দোকানের ভেতরে গ্যাসের আগুনের পাশে দাড়িয়ে চা-বানায়। এমনিতেই শরীর থেকে দরদর করে ঘাম ছেড়ে দেয়। আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি ছাড়া এমন গরম কমা সম্ভব নয়। ৮ম শ্রেনীর স্কুল শিক্ষার্থী আরিক জানান, বাইরে প্রচুর রোদ। প্রয়োজন ছাড়া ক্লাস রুম থেকে বের হয় না। তবে, স্কুল ছুটির বাড়ীতে ফেরার পথে প্রচুর পানি তৃষ্ণা পায়। ওই সময় তৃষ্ণা মেটাতে লেবু শরবত পান করি। এ বিষয়ে খুলনা আঞ্চলিক আওহাওয়া অফিসের উপ-সহকারী আবহাওয়াবিদ অমরেশ চন্দ্র ঢালী জানান, বৃষ্টিপাতের পরিমান কম থাকার দরুন গরমের অনুভূত হচ্ছে, তাপমাত্রাও বাড়ছে। খুলনাতে আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সামান্য করে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। তবে আগামী ২৩ ও ২৪ এপ্রিলের পর আকাশ আশিংক মেঘলা থাকতে পারে। আগামী ২৪ এপ্রিলের পর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভবনাও রয়েছে, বৃষ্টিপাত হলে তাপমাত্রা ও গরম কমে আসবে। সোমবার (২০ এপ্রিল) খুলনার সর্ব্বোচ তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।



