স্থানীয় সংবাদ

ডুমুরিয়ায় প্রেট্রোলে দগ্ধ গৃহবধু’র মৃত্যু

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি ঃ খুলনার ডুমুরিয়ায় প্রেট্রোলের আগুনে দগ্ধ গৃহবধু বিথি বেগম (২৮) মারা গেছেন। বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সে উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের মিকশিমিল আমডাঙ্গী গ্রামের জনি গাজীর স্ত্রী।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জনি-বিথি এই দম্পত্তির সংসারে তেমন সুখ শান্তি ছিল না। স্বামী জনি কাজ করতেন একটি তেল পাম্পে। ওই বেতনের ওপর ভর করে কোন রকমে চালাতো তাদের সংসার। আবার ছিল ২টি সন্তানও। তাদের পেছনে হত খরচ। এইসব নিয়ে তাদের সংসার সুখের ছিল না। দু’জনের মধ্যে প্রায়ই হত ঝগড়া-বিবাদ। মঙ্গলবার (৫মে) দুপুরেও তাদের মধ্যে বাধে ঝগড়া। চরম উত্তেজনা পূর্ণ অবস্থায় স্বামী জনি গাজী ঘরে থাকা প্রেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দিতে যান ঘরবাড়ি। স্ত্রী বিথি বেগম যান বাধা দিতে। দু’জনের মধ্যে প্রেট্রোলের বোতল নিয়ে হয় কাড়াকাড়ি। এক পর্যায়ে স্বামী জনি আগুন জ্বালিয়ে দেন। তখন ঘর বারান্দার সঙ্গে স্ত্রী বিথি বেগমও হন দগ্ধ। গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান ডুমুরিয়া হাসপাতালে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা পাঠান খুমেক হাসপাতালে। এরপর রাতে তার অবস্থার আরও অবনতি হলে খুলনা থেকে নেয়া হচ্ছিল ঢাকায়। আর ঢাকায় নেয়ার পথেই হয় তার মৃত্যু। এ বিষয়ে রুদাঘরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন মোল্যা জানান, গৃহবধূ বিথি বেগমের শরীরের সামনে ও হাতের অনেকাংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং বুধবার দিবাগত রাতে সে মারা গেছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে অনেক কিছু শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছে, স্বামী জনি নিজেই তার স্ত্রীকে প্রেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আবার কেউ বলছে, ঘর জ্বালানোর সময় স্ত্রীর অসাবধানতার কারণে প্রেট্রোল লেগে ধরে গেছে। এখানে কোনটা সত্য, কোন মিথ্যা বোঝা মুশকিল।
ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ আছের আলী জানান, নিহত ওই গৃহবধুর মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। বিষয়টি নিয়ে অনেক গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে এখানো পর্যন্ত থানায় এসে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button