স্থানীয় সংবাদ

যশোরে পরকীয়ার জেরে যুবক হত্যা

# অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার : আটক ৪ #

যশোর ব্যুরো ঃ যশোর শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ইকরামুল হোসেন (২২) নামে এক যুবককে হত্যার পর তার লাশ ঘরের মেঝের নিচে পুঁতে রাখা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় নারীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শার্শা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বসতপুর গ্রামের একটি বাড়ির কাঠের মাচান রাখার ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইকরামুল হোসেন উপজেলার দক্ষিণ বারপোতা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
আটককৃতরা হলেন মুন্নী আক্তার (৩৬),কাকলী আক্তার (৩৪), ফজলু মোড়ল (৫২) এবং সন্দেহভাজন হিসেবে আল-ফরহাদ (২৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ইকরামুলের সঙ্গে আটক মুন্নী আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছিল এবং মুন্নী আক্তারের দাম্পত্য জীবনেও কলহ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মুন্নী আক্তার প্রথম স্বামী থাকা অবস্থায় কৌশলে ইকরামুলকে বিয়ে করেন এবং বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেন।
পুলিশ জানায়, গত ৮ এপ্রিল সন্ধ্যার পর থেকে ইকরামুল নিখোঁজ ছিলেন। এরপর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে নিহতের বাবা আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে শার্শা থানায় মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার আটক চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আল-ফরহাদ স্বীকার করেন, ইকরামুলকে হত্যা করে বাড়ির মেঝের নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘরের কংক্রিট ভেঙে মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা ফেরত ও সম্পর্কের বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে গত ৮ এপ্রিল রাতে ইকরামুলকে বসতপুরে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর কংক্রিটের ঢালাই করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতা অভিযুক্ত বাড়ির আশপাশে ভিড় জমায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, হত্যাকা-ের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button