স্থানীয় সংবাদ

খুমেকে কতিপয় অসাধু চিকিৎসকের সহযোগীতায় দালাল চক্র সক্রিয়

শেখ ফেরদৌস রহমান: খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেল কয়েকদিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও প্রশাসনের চলছে জোরদার দালাল মূক্ত অভিযান। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তিভাব দেখা গেলেও বাস্তবে রয়েছে শর্ষের মধ্যে ভূত। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে কতিপয় অসাধু চিকিৎসকরা বহির্বিভাগে আগত সেবা প্রত্যাশি রোগীদের পাঠিয়ে দিচ্ছে পছন্দের নির্দিষ্ট কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এমনকি তাদেরকে সেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভিজিটিং কার্ড ও হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। মূলতঃ এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কমিশনের জন্য পাঠানো হচ্ছে। এ দিকে গেল কয়েকদিনের প্রশাসনের অভিযানে দালালচক্র কিছুটা আড়ালে গেলেও অভিযানের পর ও আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি এসব অভিযানগুলো সাধারণত অফিস সময়কালিন করা হলেও হাসপালটির ভর্তি রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে রোগীদের মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে পাঠানো হচ্ছে পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেখা যায় হাসপাতালটির বহির্বিভাগে আবাসিক সার্জন (সার্জারি) ডাঃ আব্দুর রব এর কক্ষ থেকে যখন রোগী বের হচ্ছে তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঠিকানার স্লিপ। কখনও প্রাইম হসপিটালের স্লিপ আবার কখনও উপশম ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্লিপ। কথা হয় রোগী মোঃ শান্ত’র সাথে তিনি বলেন, আমি বহির্বিভাগে সার্জারী চিকিৎসক আব্দুর রর স্যারের রুম থেকে বের হলেই দায়িত্বরত একজন কর্মচারী আমার স্লিপ নিয়ে একটি টালি খাতায় এন্ট্রি করার সময়ে আমার হাতে এই স্লিপ ধরিয়ে দিয়েছে। আর বলেছে কম টাকা রাখবে। তবে আমার কাছে টাকা নেই যেকারণে আমি এখন যাইনি ডায়গনস্টিক সেন্টারে পরিক্ষা করতে। এছাড়া দেখা যায় অন্যান্য বহির্বিভাগে কয়েকটিতে একই চিত্র। বহির্বিভাগে দায়িত্বরত কর্মচারীরা হাতে ম্লিপ ধরিয়ে পছন্দে ডায়গনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে ডাঃ আব্দুর রবের সাথে কথা বলতে গেলেও তিনি কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি কিছু জানিনা। বিষয়টি নিয়ে সচেতন নাগরীক মোঃ আহাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে হাসপাতালটিতে রোগীর থেকে দালাল এর সংখ্যা বেশি। সামর্থহীন অসুস্থ্য রোগীরা আসে সেবা নিতে সরকারী হাসপাতালে যেন খরচ কম হয়। আর এই দালাল প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সব কিছু যেন খুইয়ে আসছে তারা। আমি দেখেছি যে গেল কয়েকদিন দালাল চক্র দমনের অভিযান চলছে। কিন্ত হাসপাতালটিতে দালাল মুক্ত হবেনা, এর মুল কারণ শর্ষের ভিতরে ভূত যার বাস্তবচিত্র সকালে আসলে বহির্বিভাগে দেখা যায়। তবে বিষয়টি নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কাজী আইনাল হক বলেন, আমি জানিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। এছাড়া কোন রোগী যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া আমি বিষয়টি নিয়ে কথা বলব মিটিংএ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button