জাতীয় সংবাদ

চামড়া সংরক্ষণে ব্যাপক উদ্যোগ, বিনামূল্যে লবণ দেবে সরকার: মন্ত্রী

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ আসন্ন ঈদে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহারে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সারাদেশে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদের সময় চামড়ার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ চামড়া খাত বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত। কোরবানির সময় সংগৃহীত চামড়াই দেশের ট্যানারি ও চামড়াজাত শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া যেন সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট না হয়, সেজন্য সরকারের অর্থায়নে সারাদেশে লবণ পৌঁছে দেওয়া হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মাদ্রাসা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনামূল্যে এই লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু সঠিকভাবে জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার কসাই ও মাংস ব্যবসায়ীকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি টেলিভিশন, পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও লিফলেটের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় দেশের মসজিদগুলোতেও এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া জুমার নামাজ ও ঈদের আগে ইমামদের মাধ্যমেও মুসল্লিদের চামড়া সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা হবে। মন্ত্রী বলেন, দেশের হাজার হাজার কওমি মাদ্রাসা সমাজের দান-অনুদানের ওপর নির্ভরশীল। কোরবানির পশুর চামড়া থেকে যে অর্থ আসে, তা এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। তাই চামড়ার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ঈদের সময় ও পরবর্তী দিনগুলোতে চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম তদারকি করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক টিম সারাদেশে সক্রিয় থাকবে। এ কাজে সংসদ সদস্যদেরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। চামড়ার মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাসির চামড়ার দাম সারাদেশে প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের স্থানীয় শিল্পে চামড়া ব্যবহার নিশ্চিত করা, যাতে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে চামড়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা যায়। তবে প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত সময়ের জন্য ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে ট্যানারি মালিক, কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারীদের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের কোরবানির ঈদে চামড়া সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button