স্থানীয় সংবাদ

যশোরে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির লাইসেন্সধারীরা কি ফ্যাসিস্ট :এমন প্রশ্ন এখন সকলের মুখে মুখে

যশোর ব্যুরো ঃ ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র পণ্য বিক্রি এখনও নিয়ন্ত্রন করছে তৎকালীন সরকারের লোকজন বলে অভিযোগ উঠেছে। অবিলম্বে যশোর জেলায় টিসিবি’র লাইসেন্সধারী ঠিকাদারদের তালিকা বাতিল পূর্বক পুনরায় লটারীর মাধ্যমে নতুন লাইসেন্স প্রদানের জোর দাবি জানিয়েছেন যশোরের বিভিন্ন পেশার মানুষ। গত ২০২৪সালের ৫ আগষ্টের পর পৌরসভার অধীনে তৎকালীন (আওয়ামীলীগ) সরকারের আমলে ঢালাওভাবে ওএমএস লাইসেন্সধারীদের তালিকা স্থগিত করে নতুন করে আবেদন ও লটারীর মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
সূত্রগুলো দাবি করেছেন,গত ১৬/১৭ বছর যাবত যশোর জেলায় টিসিবি পণ্য বিক্রির ডিলারশীপ দেয়া হয় আওয়ামীলীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীদের মধ্যে। বর্তমানে টিসিবি’র লাইসেন্সধারীদের সন্ধান করলে অধিকাংশ ডিলারশীপ রয়েছে তৎকালীন আওয়ামীলীগ পদধারী নেতা ও তাদের সন্তান ও চিহ্নিত কর্মীদের নামে। এর পাশাপাশি যারা আওয়ামীলীগের আত্মীয় স্বজন রয়েছে তাদের অনেকের টিসিবি’র লাইসেন্স জুটেছে। তারা টিসিবি’র লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রতিমাসে ভোক্তাদের ঠকিয়ে নিজের চুক্তিবদ্ধ দোকান ও অজ্ঞাতনামা গোডাউনে রেখে কিছু মালামাল ওই ১৬/১৭ বছর দিয়েছে এমন খবর এখন ফাঁস হয়ে পড়েছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমল থেকে এখনও টিসিবি’র পণ্য ভোক্তাদের মাধ্যমে বিক্রি করে এখনও তারা লাভবান হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে। যশোর পৌরসভার অধীনে ওএমএস লাইসেন্স ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাতিল হলেও টিসিবি’র লাইসেন্স বাতিল না হওয়ায় যশোরের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা জেলা প্রশাসনের কাছে টিসিবি’র লাইসেন্সধারীদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সূতগুলো বলেছেন, টিসিবি’র পণ্য বিক্রির লাইসেন্সধারীদের তালিকায় যশোর সদর উপজেলার ৪নং নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ মোশারেফ হোসেনের ছেলে সামাউল ইসলাম ইমন রয়েছেন। তার লাইসেন্সে প্রতিষ্ঠানের নাম সামাউল ভ্যারাইটিস ষ্টোর প্রোঃ মোঃ সামাইল ইসলাম (ইমন) উল্লেখ রয়েছেন। এছাড়া,একই উপজেলার শেখহাটি জামরুল তলা এলাকার মেসার্স গোল্ডেন থ্রি আর নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার স্বত্ত্বাধিকারী তৎকালীন বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কায়েস আহম্মেদ রিমু। এই রিমু হলেন সালাহ উদ্দিন কবির পিয়াস- তানজীব নওশাদ পল্লব নেতৃত্বাধিন জেলা ছাত্রলীগ কমিটির’র সহ-সভাপতি। প্রয়াত ফারাজি শাহাদাত হোসেন সড়কের মেসার্স এমএম এন্টারপ্রাইজ ডিলারটির মালিক ওয়াদুদুর রহমান রানা মহিলা আওয়ামীলীগের এক নেত্রীর ভাই। এছাড়া,নড়াইল সড়কের মেসার্স হাসান ট্রেডার্স নামের ডিলারশীপের মালিক রবিউল হাসান বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের যশোর জেলা শাখার সহ সভাপতি। যশোর পৌরসভা এলাকার পুরাতন কসবা পুলিশ লাইনের মেসার্স সজীব এন্টারপ্রাইজ’র মালিক আহসান হাবিব হলেন রিয়াদ-বিপু নেতৃত্বাধিন জেলা ছাত্রলীগ কমিটির’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়া’র মেসার্স রফিক এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ রফিকুল ইসলাম জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি।অন্যদিকে, মেসার্স লাবনী এন্টারপ্রাইজের মালিক ফারাজী শাহাদাত হোসেন সড়কের শফি গাজী। যিনি ফন্টু চাকলাদারের ঘনিষ্টজন। এই শফি চাকলাদার পরিবারের প্রভাব খাটিয়ে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিদস্যুতায় নাম লিখিয়েছেন সেই সময়। এখানেই শেষ নয় মেসার্স এজিএম নামের ডিলারশীপের মালিক আবু মুসা ২নং ওয়ার্ডের ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রীর ছেলে। এভাবে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে টিসিবি’র পণ্য বিক্রির লাইসেন্স পেতে তাদেরকে একটুও বেগ হতে হয়নি।সূত্রগুলো বলেছে,টিসিবি’র পণ্য বিক্রির লাইসেন্স নিয়ে তৎকালীণ আওয়ামীলীগের সুবিধাবাদীরা এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে যশোরের বিভিন্ন পেশার মানুষ অভিযোগ করেছেন। দিন পাল্টালেও টিসিবি’র লাইসেন্সধারী এখনও না পাল্টানোর ফলে বিভিন্ন মহল থেকে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ খবর নিয়ে জানাগেছে, ৫ আগষ্টের পর একবার টিসিবি’র লাইসেন্সধারীদের অবস্থান নিয়ে তদন্ত শুরু হলেও যারা তদন্তে নামেন তাদেরকে মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে লাইসেন্স তাদের অনুকূলে রয়েছে। তাই টিসিবি’র লাইসেন্সধারী কারা তারা কিভাবে এই লাইসেন্স পেয়েছে সে ব্যাপারে যাচাইবাছাই মূলক নতুন করে তদন্তর দাবি জানানো হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button