২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলা ছাত্রদলে নাটকীয় পরিবর্তন, আহ্বায়ক অব্যাহতি : কমিটি বাতিলের দাবি

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় সংগঠনটিতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নবগঠিত কমিটির নেতাকর্মীদের একাংশ সংবাদ সম্মেলন করে পুরো কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঘোষিত জেলা কমিটিতে ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়ক, আবু জাফরকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং খান ইসমাইলকে সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তবে ২৪ ঘণ্টা পার হতেই ১৩ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নতুন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খুলনা জেলা শাখার আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। এদিকে একই দিন বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে নবগঠিত জেলা ছাত্রদলের সদস্যরা পুরো কমিটি বাতিলের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অনিক রহমান। লিখিত বক্তব্যে নেতারা অভিযোগ করেন, নবগঠিত কমিটিতে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। তারা দাবি করেন, আহ্বায়ক করা হওয়া ফিরোজ আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং অতীতে তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও সহিংসতার হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।এছাড়া সদস্য সচিব খান ইসমাইলের বিরুদ্ধে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাকে পূর্বে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়।সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, এই বিতর্কিত খুলনা জেলা ছাত্রদলের কমিটি আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। তারা আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। অন্যথায় গণপদত্যাগ ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা।সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল হাসান, আবু সাঈদ, আলিদ ওয়ালিদ, অনিক আহমেদ, ফয়সাল চৌধুরী ও হৃদয় আহমেদসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।



