ঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনা দূর করা জরুরি

# ঘনঘন গ্যাস বিস্ফোরণ #
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসার গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের শেষ সদস্যটিরও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও অস্তিত্ব এক নিমিষে বিলীন হয়ে গেল। পাঁচ সদস্যের পরিবারটির আর কেউ বেঁচে রইল না। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা গ্যাস সংযোগ ব্যবস্থার ঝুঁকির বিষয়টি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। বস্তুত ফতুল্লার এ ট্র্যাজেডি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; সাম্প্রতিক সময়ে দেশে প্রায় নিয়মিত ব্যবধানে পাইপলাইন লিকেজ ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হয়, শোকের মাতম ওঠে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। ফলে মৃত্যুর মিছিল কেবল দীর্ঘই হচ্ছে। দেশে রান্নার কাজে লাইনের গ্যাস ছাড়াও এলপিজির (সিলিন্ডার) ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কিন্তু এই বর্ধিত ব্যবহারের সঙ্গে যে নিরাপত্তা সচেতনতা ও তদারকি প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও অসাধু ব্যবসায়ীরা পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার রিফিল করে বাজারে ছাড়ছে। অন্যদিকে, লাইনের গ্যাসের ক্ষেত্রেও পুরোনো ও জরাজীর্ণ পাইপলাইন, লিকেজ এবং অবৈধ সংযোগের কারণে প্রতিনিয়ত বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনগুলো ডেথ ট্র্যাপে পরিণত হচ্ছে। গ্যাস বিতরণকারী সংস্থাগুলোর অবহেলা ও দুর্নীতির দায় আজ সাধারণ মানুষকে নিজের জীবন দিয়ে মেটাতে হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় গ্যাস বিস্ফোরণের এ ধারাবাহিকতা বন্ধ করতে হলে এখন আর শুধু ‘সচেতনতার বাণী’ শুনিয়ে পার পাওয়া যাবে না। অবিলম্বে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রথমত, পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। আবাসিক এলাকায় নিয়মিত গ্যাস ডিটেক্টর দিয়ে লিকেজ পরীক্ষা এবং অবৈধ সংযোগ উচ্ছেদে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাজারে থাকা সব সিলিন্ডারের ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার বাজার থেকে তুলে নিতে হবে। ফতুল্লার এক পরিবারের পাঁচ সদস্যের এই নির্মম মৃত্যুর ঘটনা যেন আমাদের নীতিনির্ধারকদের চোখ খুলে দেয়। গ্যাস খাতের এ ঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনা দূর করা হোক। যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে এ খাতকে নিরাপদ করা এখন সময়ের দাবি।
