জাতীয় সংবাদ

‘তুই রাজাকার’ আদলে ভারতে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন

মোদির বিজেপিকে ছাড়িয়ে গেল!

প্রবাহ ডেস্ক : ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ ঘিরে শুরু হওয়া নতুন অনলাইন আন্দোলনকে ঘিরে এখন নানা ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ সামনে আসছে। অনেকেই এই আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে পলাতক হাসিনার সময় আলোচিত ‘তুই রাজাকার’ আন্দোলনের তুলনা টানছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে অবমূল্যায়ন করে দেওয়া মন্তব্য কীভাবে উল্টো প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হয়— দুই ক্ষেত্রেই সেই মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতে আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। জাল ডিগ্রি ও বেকারত্ব প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি কিছু যুবককে “তেলাপোকা” ও “পরজীবী” বলে উল্লেখ করেন। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তরুণরা ব্যঙ্গাত্মকভাবে নিজেদের “তেলাপোকা” পরিচয়ে সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
অন্যদিকে বাংলাদেশে ‘তুই রাজাকার’ শব্দবন্ধটি নতুন মাত্রা পায় চব্বিশের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বৈরাচারী হাসিনার থেকে আসা “রাজাকার” শব্দের ব্যবহার দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে উল্টো প্রতিরোধের ভাষায় পরিণত হয়। শিক্ষার্থীরা সেই শব্দকেই প্রতিবাদের স্লোগানে রূপ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের দমিয়ে দিতে ব্যবহৃত শব্দ যখন উল্টো পরিচয়ের প্রতীকে পরিণত হয়, তখন সেটি আন্দোলনের শক্তিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের ঘটনাতেই জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল সক্ষমতা বড় ভূমিকা রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়ে তারা খুব দ্রুত মিম, ব্যঙ্গ, ভিডিও ও স্লোগানের মাধ্যমে একটি আবেগকে গণআলোচনায় নিয়ে এসেছে। ফলে প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে থেকেও এসব আন্দোলন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
ভারতের ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের উদ্যোক্তা অভিজিৎ দীপক অবশ্য পরিষ্কার করেছেন যে, এটি সরকার পতনের কোনো উদ্যোগ নয়। তার দাবি, তরুণদের অপমানের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবেই এই আন্দোলন গড়ে উঠেছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে এর জনপ্রিয়তা এবং লাখো তরুণের সম্পৃক্ততা রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ‘তুই রাজাকার’ এবং ভারতে ‘তেলাপোকা’— দুই ক্ষেত্রেই মূল শক্তি ছিল অপমানকে প্রতিবাদের ভাষায় রূপান্তর করা। একসময় নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত শব্দগুলোই পরে তরুণদের পরিচয়, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক জনমত ও ডিজিটাল সংহতি।
মোদির বিজেপিকে ছাড়িয়ে গেল ‘তেলাপোকা’ : ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ছাড়িয়ে যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে সংগঠনটি।
ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা বাড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার। সংগঠনটি জানায়, তাদের ‘ঈচঔথ২০২৯’ নামের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ব্লক হওয়া অ্যাকাউন্টটির একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে বলেন, “যেমনটা আশা করা হয়েছিল, ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়েছে।”
এরপর ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তায় দীপক তার ১ কোটিরও বেশি অনুসারীকে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা কোনো ভুল লিখিনি। আমরা শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
করেছি, কারণ একজন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। আমরা শুধু জবাবদিহিতা চাই। এটা কেমন গণতন্ত্র?”
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সর্বভারতীয় প্রি-মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর থেকেই সিজেপি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল।
উচ্চচাপের এই ভর্তি পরীক্ষাটি আগামী জুনে পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার জেরে অন্তত দুজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
এর আগে অভিজিৎ দীপক অভিযোগ করেছিলেন, সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা চলছে।
ভারতে এমন একটি আইনি কাঠামো রয়েছে, যার মাধ্যমে সরকার জাতীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার কারণ দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে কোনো কনটেন্ট অপসারণ বা অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারে। এসব নির্দেশ আইনত বাধ্যতামূলক হলেও সাধারণত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। সূত্র: ডয়চে ভেলে

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button