নগরীর টুটপাড়ায়ও হত্যার শিকার হন নানী ও দু’ শিশু

গ্রেফতার হয়নি সব আসামি
স্টাফ রিপোর্টার : গত ১৬ নভেম্বও ২০২৫। খুলনা নগরীর লবণচরা থানাধীন দরবেশ মোল্লা গলি। সেখানকার একটি বাড়ির মুরগির খামার থেকে নানি মহিদুন্নেছা (৫৫), নাতি মুস্তাকিম (৮) ও নাতনি ফাতিহার (৬) ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ট্রিপল হত্যা ঘটনায় ওই দুই শিশুর বাবা শেফার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিন খুনের ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন শামীম আহমেদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গত ২৯ নভেম্বর কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায় ঘটনার দিন দুপরে ১টা থেকে দেড়টার দিকে ৬-৭ জন সন্ত্রাসী এ হত্যাকা-ে অংশ নেয়। তাদের মধ্যে চারজন ঘরের ভেতরে গিয়ে হত্যা করে এবং দু’জন বাড়ির বাইরে পাহারায় ছিল। নিহতদের মধ্যে ছিলেন এক বৃদ্ধা এবং দুই শিশু। তিনজনেরই মাথার পেছনে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত দুই শিশুর পিতা ও নিহত বৃদ্ধার জামাই সেফার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, জমি দখল নিয়ে শামীম আহমেদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
তার ভাষ্য, শামীম আমাদের ১ একর ৬৯ শতক জমি জাল দলিলের মাধ্যমে নিয়ে নেয়। বিষয়টি জানার পর আমরা মামলা করি। এরপর থেকেই সে আমাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে এবং কয়েকবার প্রাণনাশের হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত সে আমার দুই সন্তান ও শাশুড়ীকে হত্যা করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও লবণচরা থানার ওসি তদন্ত মো. ইউসুফ আলী ওই সময় বলেন, শামীম অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে এবং হত্যাকা-ে কারা কারা জড়িত ছিল সে সম্পর্কেও জানিয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ট্রিপল মার্ডারের মূল আসামি গ্রেপ্তার : খুলনার লবণচরা থানাধীন টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলির আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের অন্যতম আসামি বিসমিল্লাহ ওরফে বিসমিল্লাহ শেখকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টুটপাড়া দারোগার বস্তি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে খুলনা থানার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একটি মামলায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট ছিল। বিসমিল্লাহ টুটপাড়া ২ নম্বর ক্রস রোড, কবি নজরুল সড়কের বাসিন্দা।
ট্রিপল মার্ডার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও লবণচরা থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইউসুফ আলী ওই সময় জানান, তিন খুনের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহমেদসহ আরও কয়েকজন আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বিসমিল্লাহর নাম উল্লেখ করেছে। এর আগে খুলনা থানায় জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি ট্রিপল মার্ডার সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। খুব শিগগিরই এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে।
এর আগে একই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার মোল্লাপাড়া আরজু কালভার্টের সামনে থেকে তরিকুল ইসলাম নামে এক যুবককে
গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তরিকুল ওই এলাকার আরজু কালভার্ট মোড়ের বাসিন্দা মো. আজহারুল ইসলাম আরজুর ছেলে।

