শ্বশুরবাড়ির শয়নকক্ষে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় কনিকা আক্তার নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির নিজ শয়নকক্ষ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যা নাকি হত্যাÑতা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত কনিকা আক্তার উপজেলার রায়েরকান্দি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাদবরের মেয়ে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কনিকার আগে অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল। তবে সেই বিয়ের আগেই শফিউল্লাহ মোল্লার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম বিয়ের পরও দুজনের মধ্যে যোগাযোগ ও কথাবার্তা চলতে থাকে। একপর্যায়ে প্রথম স্বামীর সঙ্গে তার দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং তিনি বিবাহবিচ্ছেদ (ডিভোর্স) নেন। এরপর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে পরিবারের অমত থাকার পরও শফিউল্লাহ মোল্লার সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন কনিকা। প্রায় ছয় মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। বর্তমানে স্বামী বিদেশে থাকলেও তিনি শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিলেন। তার স্বামী প্রায় ১০ দিন আগে কর্মসূত্রে মালয়েশিয়া যান। সোমবার সকাল ১০টার দিকে কনিকাকে থালাবাসন ধুতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর বেলা ১১টার দিকে তার দেবর মুন্না (১৪) খাবার খাওয়ার জন্য ভাবিকে ডাকতে ঘরে যান। ঘরের দরজা খোলা থাকলেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে তাকান। এ সময় তিনি কনিকাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্য ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে কনিকার দেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত থাকলেও তার দুই পা বিছানার ওপর স্পর্শ করা অবস্থায় ছিল। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহতের শ্বশুর হামিদ মোল্লা বলেন, সকাল ১০টার দিকে ছেলের বউকে থালাবাসন ধুতে দেখেছি। এরপর আমি বাজারে চলে যাই। পরে খবর পাই সে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। এদিকে নিহত কনিকার বাবা আব্দুর রাজ্জাক মাদবর বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই। এ ব্যাপারে জাজিরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সালাম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



