স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় আন্দোলন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয় শিক্ষার্থীদের

জুলাই আন্দোলনের দিনগুলি-৩১
# সমন্বয়কারী শাহরিয়ারকে পুলিশের বেধড়ক মারপিট
# লাঠিচার্জ-টিয়ালশেলে আহত ৬০ : আটক শতাধিক

এম সাইফুল ইসলাম ঃ খুলনায় ২০২৪ সালের কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচিতে দফায় দফায় হামলা চালায় পুলিশ। গত বছর অভ্যুত্থানে ৩১ জুলাই দুপুরের দিকে এ হামলা শুরু হয়। লাঠিচার্জ, টিয়ারশেলে নগরীর সাত রাস্তা মোড় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হলে পরে তা’ রয়েল মোড়, শান্তিধাম, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, বাইতিপাড়া, মৌলভিপাড়া, পিটিআই মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে প্রায় ৬০ শিক্ষার্থী আহত হয়। এ সময় নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয় শতাধিক শিক্ষার্থীকে। এর আগে ৩০ জুলাই রাতে সার্কিট হাউজে ছাত্র সমন্বয়কদের ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে খুলনার আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিতে বাধ্য করার প্রতিবাদে ৩১ জুলাই শিক্ষার্থীরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর রয়েল মোড় ও ময়লাপোতা মোড়ে মিছিলের চেষ্টাকালে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। ওই সময় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালায় আইনশৃংখলা বাহিনী। সড়কে যাতায়াতকারীদের মোবাইল ফোন চেক করে লাল প্রোফাইল দেখলেই তাদের আটক করা হয়। দুপুর ১টার দিকে ময়লাপোতা মোড়ে পুলিশে ধাওয়া খেয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আহসানুল্লাহ কলেজে আশ্রয় নেয়। তারা ভবনের ভেতর একটি কক্ষে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দেয়। পরে দরজা ভেঙে শিক্ষার্থীদের আটক করে পুলিশ। আন্দোলনকারীরা জানান, সারাদেশে নিহত ছাত্রদের হত্যার বিচারের দাবিতে ৩১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ছিল। খুলনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে বেলা ১১টায় রয়েল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সকাল থেকে নগরীর রয়েল মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বেলা ১২টা থেকে শিক্ষার্থীরা রয়েল মোড়ের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলেই তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন চেক করে করতে দেখা যায় পুলিশকে। পরে তারা ময়লাপোতার মোড়ে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে সেখান থেকে আটক করা হয় ১৭ জনকে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা কেডিএ অ্যাভিনিউ দিয়ে রয়্যাল মোড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ময়লাপোতা মোড়ের দিকে এবং কিছু সাতরাস্তার মোড়ের দিকে চলে যায়। এ সময় দুটি প্রাইভেটকার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ময়লাপোতে আবার শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয় পুলিশ। তখন কিছু শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ কলেজে আশ্রয় নেয়। শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ শেরে বাংলা সড়ক দিয়ে ময়লাপোতা মোড়ে প্রবেশ করে সিটি মেডিকেল কলেজের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ছাত্রলীগের একটি মিছিল ওই এলাকায় আসলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘাত এড়াতে ময়লাপোতা মোড়ে বিপুল সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বেলা ২টার দিকে বেশকিছু শিক্ষার্থী সাতরাস্তা মোড়ে সড়কে বসে পড়ে বিক্ষোভ করে। বেলা সোয়া দুইটার দিকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের অবস্থানে লাঠিচার্জ শুরু করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ রয়েল মোড়, শান্তিধাম, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, বাইতিপাড়া, মৌলভিপাড়া, পিটিআই মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার ছাত্রদের যোগ দিতে দেখা যায়। পুলিশের মুর্হুমূহু টিয়ার সেল, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভয়ে আতংকে ওই সব এলাকার দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল ৪টার কিছু আগে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ওই সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে আল শাহরিয়ার জানান, পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারসেলের আঘাতে কমপক্ষে ৬০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে। তাদের সন্ধ্যার মধ্যে মুক্তি দেওয়া না হলে আমরা স্বেচ্ছায় গ্রেফতার হবো। খুলনায় শিক্ষার্থীদের মার্চ ফর জাস্টিস কর্মসূচি চলাকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছাড়িয়ে নিতে খুলনা সদর থানায় যান শিক্ষকরা। বিকাল ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশে ৩ জন সহকারি ছাত্র বিষয়ক পরিচালক থানায় যান। পরে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের আরও শিক্ষকরা রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button