স্থানীয় সংবাদ

উদ্বোধনের আগেই ১৬৬ কোটি টাকার খুলনা বিভাগীয় সরকারি শিশু হাসপাতালে ফাটল

দেড় বছরেও চালু হয়নি ২০০ শয্যার হাসপাতাল, মূল ফটক ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণেও জটিলতা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার মানুষের বহুল প্রত্যাশিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি। মূল ফটক নির্মাণ না হওয়া, সীমানাপ্রাচীর নিয়ে জটিলতাসহ নানা কারণে হাসপাতালটির উদ্বোধনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ৪ দশমিক ৮০ একর জমি ৫২ কোটি ২ লাখ টাকায় অধিগ্রহণ করে জেলা প্রশাসন। ২০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণে প্রথম ধাপে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের জন্য ১১৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। পরে ২০২৪ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হয়। দীর্ঘদিন ধরে খুলনাবাসীর দাবি ছিল, বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক শিশু হাসপাতাল চালু হলে খুলনাসহ আশপাশের জেলার শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হবে। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ফাটলসহ অবকাঠামোগত নানা সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক নেতা ও চিকিৎসকরা। তাদের মতে, এটি শুধু একটি ভবন নয়; খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা অবকাঠামো। দ্রুত ত্রুটি-বিচ্যুতি নিরসন করে হাসপাতালটি চালুর দাবি তাদের। আশাবুর নামের এক ব্যক্তি বলেন, দুর্নীতি সব জায়গায় করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা আসবে চলে যাবে কিন্তু আমরা খুলনার স্থানীয় মানুষেরা এই শিশু হাসপাতালটি উপভোগ করব। তারা দুর্নীতি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চলে যাবে আর এদিকে ফাটল ধরবে উদ্বোধনের আগেই। নতুন বিল্ডিং এ যদি ফাটল ধরে তাহলে কিছুদিন পরে বিল্ডিংয়ের অবস্থা কি হবে ভেবেই দেখুন। খুলনা সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, হাসপাতালটি নিয়ে মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা রয়েছে। নির্মাণের পরও এটি চালু না হওয়া এবং উদ্বোধনের আগেই ফাটলের বিষয়টি উদ্বেগের। দ্রুত বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। খুলনা শিশু হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রদীপ দেবনাথ বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি চালু হলে শিশুদের চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের সুবিধা তৈরি হবে। হাসপাতালটি দ্রুত চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। এদিকে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ গণপূর্ত বিভাগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে ফাটলসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেছেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতালটি দ্রুত চালুর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফাটলসহ যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ১৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার হাসপাতালটি চালু হলে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিশুদের উন্নত চিকিৎসাসেবায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই নির্মাণকাজের ত্রুটি ও অবকাঠামোগত জটিলতা দ্রুত নিরসন করে হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন খুলনাবাসী।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button