জাতীয় সংবাদ

ট্রাম্পের দাবিকে বুড়ো আঙুল : ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত নিশানায় ওলটপালট ২০ মার্কিন ঘাঁটি

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ফেব্রুয়ারিতে তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের হামলায় ২০টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সোমবার বিবিসি’র স্যাটেলাইট চিত্র এবং ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে। বিবিসি ভেরিফাই একাধিক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর স্যাটেলাইট চিত্র এবং সেই সাথে ইরানের হামলার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করতে প্রধান স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট’-এর আর্কাইভ করা ছবি ব্যবহার করে এই বিশ্লেষণটি করেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, লক্ষ্যবস্তু করা এই মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন এবং ওমানে অবস্থিত। হোয়াইট হাউস বারবার দাবি করেছে যে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বহুলাংশে ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বিশ্লেষকদের যুক্তি, মার্কিন স্থাপনাগুলোতে যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে তা থেকে বোঝা যায় ইরানের পাল্টা হামলাগুলো মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে স্বীকার করা দাবির চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত এবং ব্যাপক ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদর বিমান ঘাঁটি এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে থাকা তিনটি উন্নত অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যাটারি সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) এবং নজরদারি বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সেখানে বিধ্বস্ত বিমান এবং পুড়ে যাওয়ার দাগ দৃশ্যমান রয়েছে। মায়ার-এর একজন বিশ্লেষকের শনাক্ত করা বিমানগুলোর মধ্যে একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমান ছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি প্রতিস্থাপন করতে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অন্যান্য জায়গার মধ্যে, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং ক্যাম্প আরিফজানেও ইরানের হামলা আঘাত হেনেছে। মায়ার-এর বিশ্লেষকরা স্যাটেলাইট চিত্রে ধ্বংসপ্রাপ্ত জ্বালানি মজুত রাখার বাঙ্কার, বিমানের হ্যাঙ্গার এবং সেনাদের থাকার জায়গা শনাক্ত করেছেন, যা ইঙ্গিত করে যে যুদ্ধ চলাকালীন এই ঘাঁটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছিল। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স ফার্ম ‘জেনস’ ডক্যাম্প আরিফজানে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালানোর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। তেহরান এর জবাবে ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এবং এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, পরবর্তীতে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এর পর থেকে, সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং সংঘাতের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষই একে অপরের কাছে প্রস্তাব ও পাল্টা প্রস্তাব পাঠানো অব্যাহত রেখেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button