জাতীয় সংবাদ

দিল্লির হোটেলে আগুনে কয়েকজন বাংলাদেশি হতাহত

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ভারতের রাজধানী দিল্লির মালভিয়া নগরের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৭ জন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। নিহতদের মধ্যে ১৭ জনই বিদেশি নাগরিক, যার মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। আর আহতদের মধ্যে আছেন পাঁচ বাংলাদেশি। বুধবার (৩ জুন) সকালে ‘ফ্লুরিশ স্টে বিঅ্যান্ডবি’ নামের ওই হোটেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের লাশ নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদেরও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৮ মিনিটে হোটেলটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আগুনের ভয়াবহতা বাড়ায় আরও গাড়ি ও কর্মী বাড়ানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ৩৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দিল্লির ১০ পুলিশ সদস্যও, যাদের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস) ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, নিহত ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনই বিদেশি নাগরিক, যাদের অধিকাংশই লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক ও বাংলাদেশের নাগরিক। তবে ঠিক কতজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের ভেরিফায়েড অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলেছে, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিন জন সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতালে ও বাকি দুইজন সফদারজাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে হাইকমিশন আরও জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাদের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ম্যাক্স হেলথকেয়ার গ্রুপের মেডিকেল ডিরেক্টর ড. সন্দীপ বুধিরাজা জানিয়েছেন, বর্তমানে আটজন রোগী ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধে (অ্যাসফিসিয়েশন) আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া আগুন থেকে বাঁচতে ওপরের তলাগুলো থেকে লাফিয়ে পড়ার কারণে অনেকের হাড় ভেঙে গেছে এবং একজন মেরুদ-ে মারাত্মক আঘাত পাওয়ায় তার নিউরোসার্জারি করা হচ্ছে। আহতদের মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি পুড়ে যাওয়া এক রোগীকে সফদরজং হাসপাতালের বার্ন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী রয়েছেন। দিল্লির চিফ ফায়ার অফিসার অভিলাষ কুমার মালিক জানান, প্রাথমিক পরিদর্শনে ভবনটিতে ভয়াবহ অবকাঠামোগত ত্রুটি ও অগ্নিঝুঁকি দেখা গেছে। বেজমেন্ট এবং গ্রাউন্ড ফ্লোর বাদেও ভবনটি পাঁচ তলা উঁচু ছিল। কিন্তু পুরো ভবনে ওঠানামার জন্য লিফট ছাড়া মাত্র একটি সংকীর্ণ সিঁড়ি ছিল। এছাড়া হোটেলের সব জানালা সম্পূর্ণ বন্ধ ও সিলড থাকায় ধোঁয়া বের হওয়ার কোনো রাস্তা ছিল না। ফলে আগুন লাগার পর পুরো ভবনটি একটি ‘চিমনি’র মতো আচরণ করে, যার কারণে বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র তাপ মুহূর্তের মধ্যে ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বাসিন্দারা ভেতরে আটকা পড়েন। ভবনটিতে কোনো অভ্যন্তরীণ অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থাও ছিল না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী ও নিহতদের পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button