জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার : শফিকুল আলম মনা

# শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি ছিলেন একাধারে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানী, স্বাধীনতার ঘোষক, একনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক এবং আধুনিক বাংলাদেশের দূরদর্শী রূপকার। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণা রণাঙ্গনে দিশেহারা বাঙালি জাতিকে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা জুগিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্র তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে। বুধবার (৩ জুন) বিকাল ৪টায় বিএনপি কার্যালয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর মহিলা দল আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এড. মনা বলেন স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের এক চরম সংকটময় মুহূর্তে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে নেন জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি কুয়াশাচ্ছন্ন রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন করেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে তিনি দেশের রাজনীতিতে এক গুণগত পরিবর্তন আনেন। জিয়াউর রহমান ছিলেন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের প্রবক্তা। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে দেশের সব জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন তিনি। তাঁর এই দর্শন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর বিএনপির ১০দিনে কর্মসুচির ৫ম দিনে আয়োজিত আলোচনা সভায় শফিকুল আলম মনা আরো বলেন, শুধু রাজনীতিই নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়। তিনি বিশ্বাস করতেন আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতিতে। সেই লক্ষ্যে তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন, কৃষি বিপ্লব, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খাল খনন কর্মসূচির মতো জনমুখী উদ্যোগের সূচনা করেন। যুবসমাজকে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে তিনি প্রথম যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গঠন করেন এবং নারীদের উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নেন। আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং মুসলিম বিশ্বের সাথে জোরালো সম্পর্ক গড়তে তিনি ছিলেন অগ্রগামী। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে ‘সার্ক’-এর স্বপ্নদ্রষ্টাও ছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে সততা, কর্মঠতা ও সাদামাটা জীবনযাপনের জন্য তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ‘জনগণের রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে স্থান করে নিয়েছিলেন। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে দেশি বিদেশী ষড়যন্ত্রে তিনি শাহাদাৎ বরণ করলেও তাঁর আদর্শ, দর্শন এবং কর্ম আজও প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে দেশ ও জাতিকে সঠিক পথের দিশা দেখায়। মহানগর মহিলা দলের আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা নার্গিস আলীর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহবায়ক এড. হালিমা আক্তার খানমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসুচিতে উপস্থিত ছিলেন শাহানাজ সরোয়ার, আনজিরা খাতুন, হাসনা হেনা, নাসরিন হক শ্রাবনী, হাসিনা আকরাম, কাওসারী জাহান মঞ্জু, মিসেস মনি, রোকেয়া ফারুক, সালমা বেগম, এড. কামরুনন্নাহান হেনা, রজনী, বিউটি আক্তার, মদিনা হাওলাদার, শিল্পী আক্তার, বৃস্টি, নাসরিন বেগম, হোসনে আরা চাঁদনী, ময়না বেগম, নাসরিন, বিউটি বেগম, হাসনা মিনা, সুলতানা, ন্যান্সী, জেসমিন প্রমূখ। খুলনায় দর্জি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন: মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে খুলনা জেলা দর্জি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের (রেজিঃ নং ১১) উদ্যোগে বুধবার মনোয়ারা মার্কেটে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাবুল গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, মনিরুজ্জামান বাবু, আব্দুল লতিফ, শেখ মো. হযরত, মো. বাদল, ফজলু, আকবর, নাসিম, জলিল, সবুজ, আসাদ, রেজাউল প্রমূখ। আলোচনা সভা শেষে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া মাহফিলে সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা করেও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। রূপালী ব্যাংক কর্মচারী সংঘ: মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রূপালী ব্যাংক কর্মচারী সংঘ (রেজিঃ নং ১০৪৯), খুলনা শাখার উদ্যোগে বুধবার আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনাস্থ রূপালী ব্যাংক কর্মচারী সংঘের কার্যালয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের সিবিএ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ ব্যাংকিং শ্রমিকরা অংশ নেন। আলোচনা সভা শেষে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।



