বড় ভাইয়ের স্ত্রী কর্তৃক দেবরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

প্রতিকার চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার : নগরীতে বড় ভাইয়ের স্ত্রী কর্তৃক দেবরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাকে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে প্রকাশ। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গতকাল বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেবর মাসুদুর রহমানের স্ত্রী ফারজানা শারমিন। তার শশুর নগরীর স্বনামধন্য চিকিৎসক মোঃ নাছিম উদ্দিন। তার অভিযোগ নিজ ভাসুরের স্ত্রী ইয়াসমিন হোসেনের বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ করা হয়, তার স্বামী মোঃ মাসুদুর রহমান একজন কম্পিউটার এক্সপার্ট। তার শ্বশুর ডাঃ মোঃ নাছিম উদ্দিনের সম্পত্তির অস্তিত্ব তাঁর বড় ছেলের স্ত্রীর পূর্ব শত্রুতার জেরে আজ বিলীন হওয়ার পথে। শ্বশুরের সাথে তাঁর বড় ছেলের শ্বশুরের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল এবং পিতার বিনা অনুমতিতে বিয়ে করায় তার ভাসুর বহুদিন পৈত্রিক বাড়ি হতে বিতাড়িত ছিলেন। মৃত্যুর আগে তার শ্বশুর অনেকদিন মানসিকভাবে অসুস্থ্য থাকায় তার বড় ছেলে খুলনার ৩৩৪ নং শেরে-এ-বাংলা রোডের বাড়িসহ প্রায় ১৩ কাঠা জমি শ্বশুরের ৩ পুত্র, ১ কন্যা ও ৩য় স্ত্রীর নামে হেবা দলিল করে নেন। হেবার ১ বছর পর শ্বশুর মৃত্যুবরন করার ১ সপ্তাহের মধ্যে স্বামীর বড় ভাই এই জমির পাওয়ার অব এ্যাটনির দায়িত্বসহ শ্বশুরের রেখে যাওয়া ১টি এক্সকরোলা গাড়ি এবং প্রায় এক কোটি টাকা বন্টনের দায়িত্ব নেন। এখানেও তার স্বামীর বড় ভাই বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম করেন। কারন স্বামী এবং সন্তানের নামে নমিনিকৃত শ্বশুরের রেখে যাওয়া অর্থের হদিস এখনও পর্যন্ত তারা পাইনি। বরং টাকা নিজ ক্ষমতাবলে ইচ্ছা মাফিক বন্টন করে দেয়।
শ্বশুরের গাড়িটি রক্ষনাবেক্ষনের জন্য স্বামীর বড় ভাইয়ের নামে দেওয়া ছিল। পরবর্তীতে ৩ বছর পূর্বে জানতে পারে গাড়িটি সবার অগোচরে স্বামীর বড় ভাই তার স্ত্রীর নামে লিখে দেব। উক্ত বিষয়ে থানায় অভিযোগ জানানো হলে তার ভাসুর গাড়িটি ১২ বছর ব্যবহারের পর তার স্বামীকে না জানিয়ে বিক্রি করে অংশ হতে তার স্বামীকে বঞ্চিত করেন। ডেভেলপমেন্টের কথা বলে পাওয়ার অব এ্যাটনির দায়িত্ব নিয়ে আসলে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য দখলের থাকা ওয়ারিশের স্থানান্তরসহ জমির বন্টন না করেই দীর্ঘ ১২ বছর যাবত বাড়ি ভাড়া ও ভাড়াটিয়াদের অগ্রিম প্রদানের সম্পূর্ণ অর্থ নিজ ব্যাংক একাউন্টে রেখে সেখানেও অনিয়ম করেছিলেন। ৩ বছর পূর্বে আমার স্বামীর ব্যাংক একাউন্টে বাড়ি ভাড়ার অংশ জমা দেওয়া শুরু করেছেন, তার আগে পর্যন্ত তাদের অংশের পাওনা টাকা থেকে কম অর্থ দেওয়া হয়।
আরো অভিযোগ করা হয়, তার শ্বশুরের মৃত্যুর ১২ বছর পর নিজ স্বার্থ হাসিলের সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন পূর্বক বণ্টননামায় তার স্বামীকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে আমার স্বামীকে একঘরে করার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীদের দ্বারা তার বন্ধুকে জীবননাশের হুমকি প্রদান করে এবং মটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ভুক্তভোগীদের জীবননাশের চেষ্টা তাদেরই ষড়যন্ত্রের ফল। বর্তমানে স্বল্প মূল্যে জমিটি বিক্রি করতে বাধ্য করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসছে। এমনকি স্বামীর বড় ভাই ও তার স্ত্রীর পূর্বের প্লান ছিল সম্পূর্ন জমি তার স্ত্রীকে কিনে দিতে সাহায্য করা। কিন্তু এ বছরের ১৬ এপ্রিল আমার স্বামী তার বড় ভাই ও বড় ভাইয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারনা, বিশ্বাসভঙ্গ ও জাল-জালিয়াতির মামলা দায়ের করায় তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে চাপে ফেলে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।



