খেলাধুলা

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

# সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল #

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ বাংলাদেশের শুরুটা আজ ছিল একেবারেই ছন্নছাড়া। টানা তৃতীয় শিরোপার মিশনে নামা দলের এমন বিবর্ণ পারফরম্যান্স ভাবিয়ে তুলেছিল ডাগআউটকে। গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ায় চিন্তার ভাঁজ পড়ে কোচ পিটার বাটলারের কপালে। এর পরের গল্পটা ভিন্ন, সাহসী বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে সমতায় ফেরা বাংলাদেশ জয় নিশ্চিত করে ৯৩ মিনিটে সাগরিকার গোলে। ২-১ গোলের এই জয় নিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপার মিশনে ফাইনাল নিশ্চিত করলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ভারতের গোয়ায় চলমান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এই হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে আজ শুরু থেকেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে লড়াই করতে থাকে দু’দল। তবে বলের দখল ও আক্রমণের ধারে স্পষ্ট এগিয়ে ছিল নেপাল। আগের দুই ম্যাচের মতো এদিনও নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। মাঝমাঠে তার নিষ্প্রভতার সুযোগ নিয়ে বারবার বাংলাদেশের বিপদসীমায় হানা দিচ্ছিল নেপালি ফরোয়ার্ডরা, ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছিল লাল-সবুজের ডিফেন্ডারদের। রক্ষণভাগ বেশ কিছুক্ষণ চাপ সামাল দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে কাক্সিক্ষত লিড পেয়ে যায় নেপাল। বাংলাদেশের ডি-বক্সের ভেতর তৈরি হওয়া জটলা থেকে বল ক্লিয়ার করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া দারুণ এক কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান নেপালের গিতা রানা। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। মাঝমাঠের বদলে দুই উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরানোর চেষ্টা করতে থাকে তারা। তবে নেপালের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল ফরোয়ার্ডদের। অবশেষে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে আসে সেই জাদুকরী মুহূর্ত। দুর্দান্ত এক ‘অলিম্পিক গোলে’ (সরাসরি কর্নার থেকে গোল) নেপালের জালে বল জড়িয়ে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান ঋতুপর্ণা চাকমা। তার এই অবিশ্বাস্য গোলে সমতায় ফিরে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button