স্থানীয় সংবাদ

আদালতে অবৈধ মিজান-হাফিজের নাম এখনও ওয়েবে : নির্দেশ মানছেন না ভিসি

# ফলোআপ : খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় দখল #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বঘোষিত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব হাফিজুর রহমানের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য পদ অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। গত ৩ মে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. শামীম সূফী তাদের ট্রাস্টি সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেন এবং তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে নি¤œ আদালতের রায় বহাল রাখেন।
রায় ঘোষণার একমাস পার হলেও নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মিজানুর রহমান এবং বিভিন্ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সৈয়দ হাফিজুর রহমানেরনাম শোভা পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার কানাই লাল সরদার আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে তাদের নাম বহাল রেখেছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৮ নভেম্বর খুলনার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হন সিরাজুল হক চৌধুরী। কিন্তু ২০২৫ সালের ২১ মে তাকে সরিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন মিজানুর রহমান। হাফিজুর রহমানকে করা হয় সদস্য সচিব। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন মিজান। প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে তারা বিভিন্ন হয়রানীমূলক মামলা করে। বেশিরভাগ মামলাই পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
সূত্রটি জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় দখলের অভিযোগ তুলে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ইউজিসিতে অভিযোগ জমা দেন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিরা। ইউজিসির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গতবছর ১২ নভেম্বর ইউজিসি চিঠি দিয়ে জানায়, মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমান বৈধ ট্রাস্টি নন।
পরবর্তী সময়ে মিজানুর রহমান ও হাফিজুর রহমানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খুলনার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন ট্রাস্টি পবিত্র কুমার সরকার। গত ৩ মে মামলার রায়ে তাদের ট্রাস্টি পদ বৈধ নয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন আদালত।
গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে, সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, বোর্ড অব টাস্ট্রির চেয়ারম্যান হিসেবে মিজানুর রহমান লেখা রয়েছে। ডিসিপ্লিন কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে রয়েছে মিজানুর রহমানের নাম। তার পরিচয় দেওয়া হয়েছে বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান হিসেবে। ফিন্যান্স কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে নাম রয়েছে সৈয়দ হাফিজুর রহমানের। তাকে বোর্ড অব ট্রাস্টির সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের সময় ট্রেজারার হিসেবে কানাই লাল সরকারকে নিয়োগ দেয় ট্রাস্টি বোর্ডের তৎকালীন চেয়ারম্যান তালুকদার আবদুল খালেক। বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি কেনাসহ বিভিন্নভাবে টাকা আত্মসাতের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপির কিছু লোককে ব্যবহার করে তিনি আগের মতোই বিভিন্ন খাতের অর্থলোপাট করে যাচ্ছেন। এর মধ্যে নিজে বোর্ড বসিয়ে নিজের বেতন বাড়িয়েছেন। স্থায়ী ক্যাম্পাসে ভবন নির্মাণের ডিজাইন তৈরি, ভবন নির্মাণের কাজেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ আছে। নিজের চেয়ার টিকিয়ে রাখতে অবৈধ ট্রাস্টিদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও মামলার বাদি পবিত্র কুমার সরকার বলেন, আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে পরদিনই বোর্ড, ওয়েবসাইটসহ সব জায়গা থেকে তাদের নাম সরিয়ে ফেলা উচিত ছিলো। কিন্তু তা না করে ট্রেজারার আদালতকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়েছেন। বিষয়টি আমরা আদালতকে জানাবো।
এ ব্যাপারে ট্রেজারার কানাই লালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে চাননি।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button