সম্পাদকীয়

টাইম বোমা নিয়ে বসবাস : কবে বোধদয় হবে?

# বিমানবন্দরের পাশেই জ্বালানির মজুত #

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একটি কেপিআইভুক্ত অতি স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় স্থাপনা। পরিতাপের বিষয়, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির ঠিক পাশেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানির অনিরাপদ মজুত রাখা হয়েছে। রোববার বিভিন্ন পত্র পত্রিকার খবরে প্রকাশ, কেপিআইভুক্ত স্পর্শকাতর এ এলাকাজুড়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানির জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা থাকায় অগ্নিকা-ের ঝুঁকি এখন চরম পর্যায়ে। কারণ এখানে নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। এমনকি বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বাস্তবায়ন করা হয়নি ফায়ার সেফটি প্ল্যান। প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিষয়টি কি শুধুই গাফিলতি, নাকি এটা অজ্ঞাতসারে জাতীয় নিরাপত্তাকে এক অদৃশ্য ‘টাইমবোমার’ ওপর দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে? এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী কোনো ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অতি সন্নিকটে এমন বৃহৎ এবং অনিরাপদ জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা থাকার কোনো সুযোগই নেই। যদি বিশেষ প্রয়োজনে রাখতেও হয়, তবে সেখানে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি ও সমন্বিত জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু শাহজালালে এর কিছুই নেই। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বেবিচকের কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে পদ্মা অয়েল ব্যবসা করলেও তারা আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সেফটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করেনি। সবচেয়ে উদ্বেগের ও বিস্ময়ের বিষয় হলো, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চরম অসহযোগিতা ও উদাসীনতার কারণেই এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে! একটি রাষ্ট্রীয় সেবা সংস্থা আদতেই জাতীয় নিরাপত্তার মতো এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে উদাসীন কিনা, সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে বেবিচকের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে কেবল চিঠি চালাচালি বা লোকদেখানো ধূমপান নিষিদ্ধের আদেশে এই টাইমবোমা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব নয়। এই সংকট থেকে বিমানবন্দরকে রক্ষা করতে হলে সরকারকে এখন থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিপিসি ও পদ্মা অয়েলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন বন্ধ করা, কার্গো ভিলেজে সার্বক্ষণিক ফায়ার ক্রু ও হাইড্রেন্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় স্বার্থে এবং দেশের সার্বভৌম সুরক্ষার খাতিরে এখানে কোনো ধরনের প্রশাসনিক শিথিলতা দেখানোর বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকার অবিলম্বে সব ত্রুটি দূর করে বিমানবন্দরের নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে-এটাই প্রত্যাশা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button