প্লাটিনাম জুট মিল ইজারায় চূড়ান্ত আরএফএল গ্রুপ ঃ ক্রিসেন্ট জুট মিল লিজ গ্রহীতার নিকট ৩০ বছরের জন্য হস্তান্তর

# বিজেএমসির চেয়ারম্যানের খুলনার বন্ধকৃত জুট মিল পরিদর্শন #
স্টাফ রিপোর্টারঃ ৬ বছর উৎপাদন হীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান খুলনার প্লাটিনাম জুবলী জুটমিলে ইজারা চায় বেসরকরি শিল্প প্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপ। সরকারের আহবানে টেন্ডারে অংশ নিয়ে বেসরকরি এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যেই পরিদর্শন করেছে মিলটি। তারা এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তর পাটকালটি পুনজ্জীবনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার কবির উদ্দীন শিকদার বুধবার খালিশপুর পরিদর্শনকালে বন্ধ মিল পরিদর্শনকালে এ নির্দেশনা দেন। ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকল্প প্রধান জিএম কামরুল ইসলাম জানান, ক্রিসেন্ট জুট মিলটি আগামী ৩০ বছরের জন্য মাহাবুব গ্রুপের নিকট লিজ দেয়া হয়েছে। তারা মাসে সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দিবে ভ্যাট ও ট্যাক্স ছাড়া। বুধবার বিজেএমসির চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে মিল হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মাহাবুব গ্রুপ মূল ফিস ফিড উৎপাদনে আগ্রহী। ১৯৫৬ সালে খুলনার খালিশপুরে ১১৩ একর জমির ওপর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাটকল ক্রিসেন্ট জুট মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় ৬৫ বছর চলার পর লোকসানের কারণে ২০২০ সালের জুলাই মাসে এটির উৎপাদন বন্ধ করে দেয় সরকার। শ্রমিকদের পাওনাও কিছুটা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ক্রিসেন্ট জুট মিল বন্ধ করে দেওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক। তাঁদের অনেকেই এখন অন্য শষহরে বসবাস করছে। কেউ কেউ মুটে-মজুরের কাজ করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। নারায়ণগঞ্জের আদমজী জুট মিলের পর ক্রিসেন্ট জুট মিলই হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় জুট মিল।
ভৈরব নদের তীরে শিল্প শহর খালিশপুর ৫৫ একর জমির ওপর এ জুট মিল নির্মাণ করা হয়। বছরে ৬১ মেট্রিক টন পাটপণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ১৯৫৫ সালের যাত্রা শুরু করে। পাকিস্তানের খ্যাতিমান শিল্পপতি আগা খান গ্রুপ এ নির্মাণে সহযোগিতা করেন। মূল উদ্যোক্তা পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন। পাকিস্তানের সেই ২২ পরিবারের মধ্যে আগাখান পরিবার অন্যতম। মুক্তিযুদ্ধের পর এ শিল্প প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশের অংশীদার আগা খান দেশ ত্যাগ করে। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতি আদেশ অনুযায়ি মিলটি জাতীয়করণ করে। সেই থেকে লোকসান গুনে আসছে। ব্যাংকের কাছে ঋণের পরিমান প্রায় ৪০ কোটি টাকা। লোকসান এড়াতে বিজেএমসি ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে এ মিল বন্ধ ঘোষণা করে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, সামাজিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় মিল চালুর দাবি করেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ায়ি জাতীয় নির্বাচানের প্রাক্কালে সব প্রার্থীরা বন্ধ এ মিল চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতি কোন আলোর মুখ দেখেনি।
দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান পুর্নজ্জীবিত বিষয় নিয়ে বাণিজ্য, শিল্প বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী চীনের রাষ্ট্রদুতের সাথে সাক্ষাতের পর গণমাধ্যমকে জানান, উৎপাদনহীন এ মিলগুলো এখন ‘ইকোনোমিক লাইফ নেই’। বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বেসরকারি খাতে দেওয়া হয়েছে। পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক কমিটির সভাপতি এড. কুদরত ই খুদা বলেন, পাটকলগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রাষ্ট্রের কাছে জিম্মাদার। এখানে রয়েছে চেক এন্ড ব্যালেন্স। বাজেটে পাটকলগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু করার জন্য বরাদ্ধ রাখা উচিত। অবিলম্বে এ পাটকলগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে পূণরায় চালুর দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, লিজ প্রথার নামে এসব পাটকলের মূল্যবান যন্ত্রপাতি সব চুরি হয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে লিজ প্রথা বাতিলের দাবি জানান তিনি। এ মিলটি লিজ নেওয়ার জন্য আরএফএল গ্রুপ সরকারে আহবানে সাড়া দিয়ে টেন্ডারে অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজেএমসি খুলনা অঞ্চলে সমন্বয়কারী এসএম মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই এ শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের আগ্রহে মিলটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি প্লাটিনাম জুট মিল ও ক্রিসেন্ট জুট মিল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্রিসেন্ট জুট মিল লিজ গ্রহীতা মাহাবুব গ্রুপের নিকট হস্তান্তর করেন। তথ্যমতে, বিজিএমসির চেয়ারম্যান বুধবার উৎপাদনহীন মিলগুলো পরিদর্শন করেন। একই সাথে বিজেএমসির স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। চেয়ারম্যান বলেন, মিলগুলো লিজ প্রথায় চালু করার কোন বিকল্প চিন্তা আপাতত সরকারের কাছে নেই। তারই ধারাবাহিকতায় প্লাটিনাম জুট মিল আগামী একমাসের মধ্যে প্রাণ কোম্পানী বুঝে নিবে। ক্রিসেন্ট জুট মিল আগামী ২/১ মাসের মধ্যে উৎপাদনে যাবে বলে আশা করছি। দৌলতপুর জুট মিলের সমস্যা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। প্লাটিনাম জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মোঃ মুরাদ হোসেন বলেন, মিলটি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি চলমান রয়েছে। দেড় মাস আগে আরএফএল গ্রুপের প্রতিনিধিরা মিল পরিদর্শন করেছে। একইসঙ্গে তারা প্রোপোজালও দিয়েছে। বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কবির উদ্দীন শিকদার সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৭ মে বন্ধ ঘোষিত খুলনার পাটকল গুলো পরিদর্শনে আসেন।



