সম্পাদকীয়

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক

# সীমান্তে পুশইন চেষ্টা #

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি থাকা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি কেন সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা করছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এর মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশকে কী বার্তা দিতে চায়, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। ভারতে কোনো বাংলাদেশি অবৈধভাবে অবস্থান করলে বা কোনো অপরাধ সংঘটন করলে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নানা প্রক্রিয়া ও ধাপ আছে। তাকে গ্রেফতার করে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নাগরিকত্ব যাচাইসহ একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি করাই নিয়ম। কিন্তু ভারত এ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে কয়েকদিন ধরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) মাধ্যমে পুশইনের অপচেষ্টা চালানোর কারণে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ও অমানবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের কাছে এ আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ আচরণ সৎ প্রতিবেশীসুলভ নয়। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ কখনোই পুশইনের মতো একপেশে বন্দোবস্ত মেনে নিতে পারে না। ভারত যদি নিজেকে এ অঞ্চলের একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে দাবি করে, তাহলে তাকে অবশ্যই আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির প্রতি সম্মান জানাতে হবে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি কোনো একতরফা বিষয় নয়; এর কার্যকারিতা নির্ভর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ওপর। পুশইনের অপচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ভারতকে ১৩ বার চিঠি দিয়েছে। তারপরও থেমে নেই এ চেষ্টা। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। পুশইন চেষ্টার বিরুদ্ধে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সীমান্ত চুক্তিগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের তাগিদ দিতে হবে। কেবল আনুষ্ঠানিক চিঠি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। উল্লেখ্য, পুশইনের এ প্রক্রিয়াটি কেবল অমানবিকই নয়, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থিও। কেবল বাংলাভাষী হওয়ার অজুহাতে বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ বরাবরই ভারতের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছে। তবে সীমান্তে এ ধরনের একতরফা ও আগ্রাসী পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক বিশ্বাসের ভিতকে দুর্বল করে। পুশইন ঠেকাতে বিজিবিকে সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি ও সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকতে হবে, যেন কোনো অবস্থাতেই দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বিঘিœত না হয়। একই সঙ্গে এই পুশইন চেষ্টার ফলে বাংলাদেশ কী ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে, তা খতিয়ে দেখে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না। আমরা আশা করি, ভারত প্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিচয় দিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button