কেশবপুরে এ আই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্জেন্টিনার সমর্থককে ব্রাজিলের সমর্থক বানানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

কেশবপুর যশোর প্রতিনিধি : কেশবপুরে এ আই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্জেন্টিনা সমর্থক অহিদুর রহমান অন্তুুকে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করায় সোমবার ক্ষুব্ধ হয় কেশবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আর্জেন্টিনা সমর্থক মুলগ্রাম গ্রামের অহিদুর রহমান অন্তুু। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন,বিষয় টি আইনানুগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্বাক্ষর জাল করে কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদরাসায় সাবেক অধ্যক্ষের পুনর্বহাল চেষ্টা
আব্দুল মোমিন, কেশবপুর : কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ফসিয়ার রহমানের চাকরিতে পুনর্বহাল চেষ্টাকে কেন্দ্র করে কমিটির কয়েকজন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিনি ২১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও সম্প্রতি গোপনে মিটিং দেখিয়ে পুনরায় দায়িত্বে ফেরার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কমিটির কয়েকজন সদস্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ বোরহানউদ্দিন ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মাদরাসার সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য ফসিয়ার রহমান ৯ জুন ২০২৬ তারিখে গোপনে একটি মিটিং দেখান। ওই মিটিংকে কেন্দ্র করে কমিটির পাঁচজন সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। যাদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে তারা হলেনÑসহ-সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল গফুর গাজী, বিদ্যোৎসাহী সদস্য জনাব মোঃ আতাউর রহমান, নিয়মিত অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ও মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন। তারা জানান, সাবেক অধ্যক্ষ ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, আচরণগত সমস্যা ও প্রশাসনিক অভিযোগ রয়েছে। অথচ তাদের না জানিয়ে এবং তাদের স্বাক্ষর না নিয়েই মিটিং দেখানো হয়েছে। তারা দাবি করেন, “আমরা স্বাক্ষর করিনি, অথচ আমাদের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আমাদের মান-সম্মান ক্ষুণœ হয়েছে। আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, আমরা সেই ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজনে মানহানির মামলা করা হবে।” নিয়মিত অভিভাবক সদস্য মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন বলেন, “আমরা কমিটিতে থাকা সত্ত্বেও কোনো কিছু জানি না। যেদিন মিটিং দেখানো হয়েছে, সেদিন আমাদের কাউকে জানানো হয়নি। তিনি দুই-তিনজন লোকসহ আরও কিছু লোক নিয়ে মব সৃষ্টি করে নিজেই অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমাদের স্বাক্ষর না দেওয়া সত্ত্বেও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।” এ বিষয়ে কেশবপুর বাহারুল উলুম কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান সভাপতি বোরহানউদ্দিন বলেন, “ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। তিনি কোনো চাপের মুখে নয়, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে একটি মিটিংয়ে তার পদত্যাগপত্র ও সংশ্লিষ্ট এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়। পরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আলোচনা করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।” তিনি আরও বলেন, “তদন্ত কমিটি দীর্ঘদিন তদন্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে ফসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়, বিশেষ করে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি উঠে আসে। পদত্যাগপত্র ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।” বোরহানউদ্দিন আরও জানান, “পরে শুনতে পাই, অব্যাহতি পাওয়ার পরও তিনি আবার নিজে কমিটি দেখিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন। যদি কোনো কমিটি হয়ে থাকে, সেটি সঠিক পদ্ধতিতে হয়নি। রোববার আমি স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছি। আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, আমরা সেই ব্যবস্থা নেব।” এ বিষয়ে ফসিয়ার রহমান বলেন, আমি এখনো ষ্টিল নাও অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠানো হয়েছে স্বাক্ষর জালিয়াতির সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। একটি চক্র আমাকে ফাসাতে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।



