বেনাপোল বন্দরে ঘোষণা বহির্ভূত ৫০ কার্টুন ভারতীয় পণ্য জব্দ

যশোর ব্যুরো ঃ বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদানিকৃত একটি চালান থেকে ঘোষণা বহির্ভূত ৫০ কার্টন উচ্চ শুল্কের ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ টন ওজনের ৩ হাজার ৩৮৫পিস শাড়ি এবং দেড় টনের বেশি ফেসওয়াশ। এ ঘটনায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও বন্দরের এক শেড ইনচার্জের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কাস্টমস ও বন্দর সূত্র জানায়, গত ৭ জুন ভারতের কোহিনুর এক্সপোর্ট থেকে ৩২৬ কার্টন কালার পেন্সিল ও ইরেজার আমদানির ঘোষণা দিয়ে একটি চালান বেনাপোল বন্দরের ২৬ নম্বর শেডে আসে। চালানটির আমদানিকারক যশোরের শার্শা উপজেলার টিএস ইন্টারন্যাশনাল এবং খালাস কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের কাব্য এন্টারপ্রাইজ নামে একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার ১৪ জুন কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানটি তল্লাশি করে ঘোষিত পণ্যের বাইরে অতিরিক্ত ৫০ কার্টন পণ্য শনাক্ত করেন। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়। কাস্টমস সূত্র জানায়, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৩০ কার্টন শাড়ি, যার ওজন প্রায় ১ হাজার ৯৫০ কেজি। এসব কার্টন থেকে ৩ হাজার ১৬পিস প্রিমিয়াম শাড়ি ও ৩৬৯পিস গর্জিয়াস শাড়ি পাওয়া গেছে। এছাড়া ২০ কার্টনে ১ হাজার ৬১২ কেজি ফেসওয়াশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, বৈধ মেনিফেস্টের আড়ালে এসব উচ্চমূল্যের পণ্য এনে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল। জব্দ করা পণ্যের বাজারমূল্য ও রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। এ ঘটনায় বন্দরের ২৬ নম্বর শেড ইনচার্জ রজব আলীর ভূমিকা নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, অতিরিক্ত পণ্য খালাসে আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টের সঙ্গে তার যোগসাজশ ছিল। তবে এ বিষয়ে রজব আলীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এর ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি । বেনাপোল কাস্টম হাউসের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জব্দ করা পণ্যের বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাস্টমস আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার সাঈদ আহমেদ রুবেল বলেন, কাস্টমস যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। তদন্তে যারাই জড়িত প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



