জাতীয় সংবাদ

বেনজীরের প্রত্যর্পণের প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে- ইন্টারপোলকে চিঠিতে জানাল বাংলাদেশ

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি শুরু করেছে। বাংলাদেশ এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলকে জানানো হয়েছে। সোমবার ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগকারী বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) পক্ষ থেকে ওই চিঠি পাঠানো হয়।ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনী প্রক্রিয়া অনুসরন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের তরফ থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে চিঠি পাঠানো হবে। রেডনোটিশধারী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শকে গ্রেপ্তারের পর এনসিবির পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক পত্র। মঙ্গলবার (১৬ জুন) পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, বেনজীরকে ফেরানোর জন্য বাংলাদেশ যে কাজ শুরু করেছে, এটি চিঠির মাধ্যমে ইন্টারপোলকে অবহিত হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে পুরো প্রক্রিয়া বাংলাদেশ সম্পন্ন করতে চায়।দুদকের মামলায় ইন্টারপোলের সহযোগিতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুববাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিষয়ে ১২ জুন একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার ইন্টারপোলকে চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যদার দুই কর্মকর্তা বলেন, ইন্টারপোল কাউকে গ্রেপ্তারের পর কিভাবে কোথায় রাখা হয়েছে সেটির দেখভাল তারাই করে থাকে। ইন্টারপোলের দায়িত্ব হলো রেডনোটিশধারী কাউকে গ্রেপ্তারের পর সদস্য রাষ্ট্রকে অবহিত করা। বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর সেই প্রক্রিয়া অনুসরন করেছে ইন্টারপোল।পুলিশ সদরদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তির কারণে বেনজীরকে ফেরত আনা সম্ভব। তবে এর জন্য অনেক আইনী প্রক্রিয়া পার হওয়ার কথাও বলছেন তিনি।ওই কর্মকর্তা বলেন, যদি দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি নাও থাকে আন্তর্জাতিক সৌজন্য ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে অপরাধীদের ফেরত আনা সম্ভব হতে পারে। অপর একটি সূত্র জানায়, দেশে ফেরত আসা ঠেকাতে বেনজীরের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব–আমিরাতে আইনী প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তার পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রত্যর্পণের নথিপত্র ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর কাজ শুরু করেছে। সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সংশ্লিষ্ট দলিলাদি তৈরি করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বেনজীরকে ফেরাতে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব তৈরি ও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই প্রস্তাব দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয়কারী এনসিবি শাখায় কাজের অভিজ্ঞতা আছে এমন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে তিনটি দেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। দেশগুলো হলো– ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আরব–আমিরাতে সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি নেই। বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও আরব–আমিরাত থেকে অতীতে বিভিন্ন সময় আসামি বা বন্দি ফিরিয়ে আনার একাধিক নজির বাংলাদেশের রয়েছে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স (এমএলএ) বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে পলাতক অপরাধীকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।এর আগে জাতীয় সংসদে বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমিরাতের আইন অনুযায়ী কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বেনজরীকে প্রত্যার্পণের অনুরোধ করা হবে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিরোধীসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন। তাকে ফেরত আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করে দ্রুত বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব। পাশাপাশি জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button