স্থানীয় সংবাদ

রূপসা উপজেলা পরিষদ মডেল ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ: ইঞ্জিনিয়ার অফিসের ভূমিকায় জনমনে নানা প্রশ্ন

রূপসা প্রতিনিধি : রূপসা উপজেলা পরিষদের মডেল বিল্ডিং নির্মাণ কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সিডিউল অনুযায়ী উন্নত মানের সামগ্রী ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে ব্যবহৃত হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢালাইয়ের কাজের জন্য ব্যবহৃত পাথরের খোয়াগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কাঁদা -মাটিতে লিপ্ত। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, কংক্রিট মিক্সিংয়ে চরম কারচুপি করা হচ্ছে। এই রিপোর্ট করার সময় স্পষ্ট দেখা যার, মিক্সারে সিমেন্ট ও বালির মিশ্রণ বা ‘মসলা’ নেই বললেই চলে। শুকনো এবং কাঁদা মাখানো পাথর দিয়েই ঢালাইয়ের কাজ চালানো হচ্ছে, যা যেকোনো বড় ভবনের স্থায়িত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দেয়। নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে মসলা ছাড়া কাঁদা -মাখা পাথর ব্যবহার করলে কংক্রিটের ভেতরের বন্ধন (ইড়হফরহম) তৈরি হয় না। ফলে ভবনে ‘হানিকম্ব’ বা ফাঁপা অংশের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে পুরো ভবন ধসে পড়ার বড় কারণ হতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সুকৌশলে স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ার অফিসকে ‘ম্যানেজ’ করে এই ফাঁকিঝুঁকির কাজ নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে। সাইটে দায়িত্বরত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ঝঙ) এবং উপজেলা প্রকৌশলী সমস্ত অনিয়ম চোখের সামনে দেখলেও রহস্যজনক কারণে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। ঠিকাদারের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ তো দূরের কথা, উল্টো তাদের পরোক্ষ প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এই গণবিরোধী ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কাজের ব্যাপারে বারংবার দায়িত্বশীলদের অবহিত করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সংশ্লিষ্টদের এই ‘নীরবতার ঘুম’ ভাঙাতে এবং সরকারি অর্থের এই হরিলুট বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল। অতি দ্রুত এই ত্রুটিপূর্ণ কাজ বন্ধ করে তদন্ত সাপেক্ষে ঠিকাদার ও জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা না’ নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button