জাতীয় সংবাদ

শেখেরটেকে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই : গ্রেপ্তার ৬

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় এক বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ফরিদ আহমেদ বাবু ওরফে ‘এক্সেল বাবু’ এবং কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু সাইদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২। বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- রাশেদ খন্দকার (৩২), মো. লিটন (২৮), মো. তৌসিফ (৩০) ও মো. তরিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার বিকেল ও মধ্যরাতে রাজধানীর আদাবর, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব জানায়, মঙ্গলবার সকালে আদাবরের শেখেরটেক এলাকায় একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে ঢুকে সশস্ত্র ছিনতাইকারীরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তার কাছে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার খবর পেয়ে আদাবর থানা পুলিশ অভিযুক্তদের আস্তানায় অভিযান চালালে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় চাপাতির আঘাতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর এবং উপপরিদর্শক (এসআই) তরুণ কুমার গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে মাঠে নামে র‌্যাব-২। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে এক্সেল বাবুসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাবের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েকজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিও। এক প্রশ্নের জবাবে নয়মুল হাসান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আবু সাইদ নিজেকে কব্জিকাটা আনোয়ার গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে স্বীকার করেছে। র‌্যাবের কাছে তথ্য রয়েছে, আনোয়ার গ্রেপ্তারের পর সে চক্রটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। এছাড়া এক্সেল বাবুকে কব্জিকাটা আনোয়ারের ‘গুরু’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তারা সবাই এক্সেল বাবু ও আবু সাইদের নেতৃত্বে কাজ করত। চক্রটির মূল নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এর বিভিন্ন শাখা সক্রিয় থাকার আশঙ্কা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, বিকাশ এজেন্টের দোকানে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর অভিযুক্তদের ধরতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button