স্থানীয় সংবাদ

খুলনাকে সোলার সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

# পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সেমিনারে কেসিসির প্রশাসক #

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সংকটকে সামনে রেখে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান বাস্তবতা দেখিয়ে দিয়েছে দীর্ঘমেয়াদে সোলার এনার্জির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খুলনাকে একটি সোলার সিটি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বুধবার নগরীর সোনাডাঙ্গা দ্বিতীয় ফেজের সোলার এনার্জি পার্কের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব: সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ, খুলনা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি এড. কুদরত-ই-খুদা। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সুতপা বেদজ্ঞ। কী- নোট পেপার উপাস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্য মেরিনা যুথি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. ইয়াহিয়া আক্তার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকড. মোঃ সালাউদ্দীন মিনা, পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক মিহির লাল সরদার, জেডনেট বিডির সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, খুলনা প্রেসক্লাবের সাঃ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, ওজোপাডিকোর সহকারি প্রকৌশলী নন্দ লাল সরকার এবং কেসিসির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) শেখ জাহিদ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বিদ্যুতের লাইন পেলেই সুইচ চাপলে আলো জ্বলে এই ধারণা মানুষের কাছে সহজ। কিন্তু সোলার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। এখানে কারিগরি জ্ঞান, প্রশিক্ষিত জনবল এবং টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রয়োজন। তাই এখনই দক্ষ জনশক্তি ও সহায়ক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী ফল দেয় না। সিটি কর্পোরেশন, নাগরিক সমাজ, পরিবেশবাদী সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ উদ্যোগেই সোলার প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো সম্ভব।
তার ভাষায়, আমরা চাই খুলনা ধীরে ধীরে সোলার নির্ভর নগরীতে পরিণত হোক। এজন্য শহরের বিভিন্ন সড়কের আলোকসজ্জাকে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার চিন্তা করছি। এমনকি পরীক্ষামূলকভাবে দুটি আবাসিক এলাকাকে সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতের আলোয় আনার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্রকৌশলী আজাদুল হক, এস এম সোহরাব হোসেন, টিআইবির আব্দুল্লাহ আল মামুন, খলিলুর রহমান সুমন, সাংবাদিক মাকসুদ আলী, হাসান হিমালয়, মাহবুব আলম বাদশা, ইসমাত আরা হিরা, বাহালুল আলম, ধ্রুব। উপস্থিত ছিলেন নারী নেত্রী রেহানা ঈসা, এড. তসলিমা খাতুন ছন্দা, কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু, অজান্তা দাশ, মাহফুজুর রহমান মুকুল, এড. জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী, সাংবাদিক হেদায়েত হোসেন মোল্লা, আফজাল হোসেন রাজু, শরিফুল ইসলাম সেলিম, মনিরুজ্জামান মোড়ল, জাবেদ খালিদ জয়, হাসান মাহমুদ, কোহিনুর আক্তার কণা প্রমূখ। প্রশাসক বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে এবং আর্থিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা কারও কাছে হাত পাতি না, ঋণও করি না। জনগণের অর্থ দিয়েই উন্নয়ন কাজ করি। তবে ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং কারিগরি সহায়তার সীমাবদ্ধতায় অনেক উদ্যোগ টেকেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, একসময় মোবাইল ফোন ছিল সীমিত পরিসরের প্রযুক্তি। এখন সেটি দেশের অন্যতম বৃহৎ খাত। সোলার প্রযুক্তিকেও সেভাবে সহজলভ্য ও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। সেমিনারে নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শিল্পভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, শলুয়া এলাকায় একটি আধুনিক প্রকল্পের মাধ্যমে বর্জ্য থেকে সার, তেল ও গ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচজাত বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যে নতুন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য রয়েছে। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বোতল ও পলিথিন নাগরিকদের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনায় আছে। নগর উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, আমরা ধুলামুক্ত শহর, মশামুক্ত শহর, সবুজ শহর এবং সোলার শহর এই চারটি লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করতে চাই। তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সম্ভাব্য উন্নয়ন কর্মসূচিতে সৌরবিদ্যুৎ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইজিবাইক চার্জিং স্টেশন স্থাপনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। সেমিনার ভেন্যু সোলার এনার্জি পার্ককে আরও সক্রিয় ও নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সেখানে আধুনিক সেমিনার সুবিধা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং শিশুদের জন্য বিনোদন সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে। সেমিনারে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। উল্লেখ্য, এই সোলার পার্ক ও ট্রেনিং সেন্টারটি তৈলী করা হয়। ২০০৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর। তৎকালিন সময় এটি সর্ববৃহৎ সোলার এনার্জি পার্ক ছিল। এখানে ২৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। যার মধ্যে ৫ ওয়াট দিয়ে পুরো সোলার পার্ক আলোকিত হতো। বাকী ১৫ কিলোওয়াট নেট মিটারিং-এর মাধ্যমে গ্রীডে যোগ হতো। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সঠিক তদারকির অভাবে ২০১০ সাল নাগাদ এটি বন্ধ হয়ে যায়। এটিকে ঘিরে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। যা এখন মৃতপ্রায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button