স্থানীয় সংবাদ

মায়ের মামলায় গ্রেফতার পুলিশ দম্পতি কারাগারে

# নগরীতে গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতন #
# পাঁচ বছর ধরে কাজ করা তরুণীকে মারধর, ছ্যাঁকা ও আটকে রাখার অভিযোগ #
# গত দুই বছর ধরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেয়নি #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় গৃহপরিচারিকাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার দুই পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তরা হলেন সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এএসআই (নিঃ) পপি রানী সাহা (৩৫) ও তার স্বামী একই থানার এএসআই (নিঃ) সঞ্জয় কুমার সরকার (৩৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফারুক ইকবালের আদালতে তাদের হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার গৃহপরিচারিকা মিলন চন্দ্র দাসের (২২) মা মিনতী রাণী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে পপি রানী সাহা ও সঞ্জয় কুমার সরকারের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন মিলন। এ সময় সামান্য ভুলত্রুটির কারণেও তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো।
এজাহারে আরও বলা হয়, বেলন, খুন্তি ও অন্যান্য গৃহস্থালি সামগ্রী দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা, গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া এবং বাসার একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হতো। গত দুই বছর ধরে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ১৭ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রান্না করা তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পপি রানী সাহা ক্ষিপ্ত হয়ে একটি কড়াই দিয়ে মিলনকে আঘাত করেন। এতে তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান এবং খবর পেয়ে পুলিশ মিলনকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীর মা মিনতী রাণীর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
থানার ডিউটি অফিসার এসআই হাসানুজ্জামান বলেন, “মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার দেখিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় এফআইআর নং-২০/২০২৬ ও জিআর নং-১৪৩/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত মামলায় দ-বিধির ৩৪৪, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের অভিযোগে মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তারা দু’জনই আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তাদের কাছ থেকে এ ধরণের অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সব ধরনের আইনি ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হবে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button