শিরোমণিতে ময়লার স্তূপে জনজীবন অতিষ্ঠ বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি : নিরুত্তাপ প্রশাসন

খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ খুলনা-যশোর মহাসড়কের শিরোমণি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বর্তমানে ডেঙ্গু বিস্তারের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে ওঠা এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ততম খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশেই যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে গৃহস্থালি বর্জ্য, পচনশীল আবর্জনা, প্লাস্টিক ও অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্য। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ময়লার এই উন্মুক্ত ভাগাড়টির অদূরেই অবস্থিত জনবহুল শিরোমণি বাজার এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। প্রশাসনের নাকের ডগায় দিন দিন আবর্জনার স্তূপ বড় হলেও তা অপসারণ কিংবা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষার মৌসুমে ময়লার স্তূপে জমে থাকা পানি এডিস মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি ময়লার স্তূপ সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী দৈনিক মানবজমিনের ফুলতলা উপজেলা প্রতিনিধি গাজী মাকুল উদ্দীন এবং তার পরিবারের সদস্যরা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সাংবাদিক গাজী মাকুল উদ্দীনকে প্রথমে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে খুলনা ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন ও বিশ্রামে রয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। ময়লার দুর্গন্ধে পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা জনমনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, জনবহুল এলাকার মাঝখানে অবস্থিত উন্মুক্ত ময়লার ভাগাড়টি অবিলম্বে অপসারণ করে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, মশক নিধন অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শিরোমণির সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল মনে করছেন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই দুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে মুক্তি দিতে।


