স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ আজ : সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

# প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস ময়দানে আজ ২০ জুন (শনিবার) ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ। বেলা ২ টায় এ সমাবেশ শুরু হবে। ইতোমধ্যে এ সমাবেশ সফল করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ সমাবেশকে ঘিরে ইতোমধ্যে জোটের শরিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে খুলনা বিভাগীয় সমাবেশকে ঘিরে নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
১১ দলের নেতারা আশা করছেন, এই জনসমাবেশ খুলনার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। জাতীয় নির্বাচনের পর খুলনায় বিরোধী জোটের স্মরণকালের বিশাল সমাবেশ হতে যাচ্ছে এটি। বিশেষ করে সংসদে বিরোধী জোটের অবস্থান, বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের প্রতি সমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির দিকনির্দেশনা এই সমাবেশ থেকে উঠে আসতে পারে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমাবেশটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষন দিবেন সংসদীয় বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বক্তব্য রাখবেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন বলেন, বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা ও উপজেলা থেকে ১১ দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সফল সমাবেশ আয়োজনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। জনগণের বিভিন্ন দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; বরং সাধারণ মানুষের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সুশাসন এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিকে জোরালোভাবে তুলে ধরার একটি গণমঞ্চ। খুলনা বিভাগের সর্বস্তরের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করবেন এবং জনগণের ন্যায্য দাবির পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেন ইনশাআল্লাহ।
সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ১১ দলের নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সমাবেশ বাস্তবায়নে গঠিত ১৭টি উপ-কমিটি দফায় দফায় বৈঠক করে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দুই লক্ষাধিক পোস্টার, ১০ লক্ষাধিক লিফলেট, ৫ সহস্রাধিক ফেস্টুন ঝুলানো হয়েছে বিভাগজুড়ে। নেতৃবৃন্দদেরকে স্বাগত জানিয়ে খুলনা মহানগরীর ৫টি প্রবেশদ্বারে ১৭টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। সমাবেশে খুলনা মহানগরীর পাশাপাশি খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরা জেলার লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটবে। সবমিলিয়ে এ সমাবেশ হবে স্মরণকালের বিশাল সমাবেশ। শনিবার নগরবাসী সেই বিশাল সমাবেশের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, খুলনা সার্কিট হাউস সমাবেশস্থল হলেও গোটা নগরীই পরিণত হবে সমাবেশস্থলে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও সে রকম সাড়া পাওয়া গেছে। এ জন্য নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়, ফেরীঘাট মোড়, ডাকবাংলো মোড়, হাদিস পার্ক, কাস্টম ঘাট, জেল খানা ঘাট, খুলনা সদর থানা মোড়, হাজী মহসিন রোড হয়ে টুটপাড়া কবরস্থান মোড়, কমার্স কলেজের সামনে, আহসান আহমেদ রোডসহ ২০টি স্পটে তিন শতাধিক হর্ণ টাঙানো হয়েছে। তিনি বলেন, সমাবেশ উপলক্ষে খুলনার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানের দক্ষিণ পাশে দেড় শতাধিক অতিথির জন্য বিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। মঞ্চের ব্যারিকেটের মধ্যে শতাধিক সাংবাদিকের বসার ব্যবস্থা এবং মাঠের মধ্যে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার জন্য পৃথক দুটি স্ট্যান্ড নির্মাণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ১১ দলের নেতারা সমাবেশস্থল পরিদর্শন করে মঞ্চ নির্মাণ, আগতদের অবস্থান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
তিনি বলেন, খুলনার আজকের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই মঞ্চ থেকে দেশের চলমান পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগ ইস্যুতে আমীরে জামায়াত বড় কোনো বার্তা দিতে পারেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button