আজই পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার সোমবারই পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদপত্র দ্য অবজারভার। এমনকি ক্ষমতা ছাড়ার একটি সময়সূচিও তিনি প্রকাশ করতে পারেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি সূত্র এসব জল্পনা নাকচ করে জানিয়েছে, স্টারমার এখনও সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালনে মনোযোগী। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দ্য অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি গ্রামীণ বাসভবন চেকার্সে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন স্টারমার। লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারাও আশা করছেন, সোমবারের মধ্যেই তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাবেন। তবে সরকারের একটি সূত্র বলেছে, স্টারমার আগের মতোই দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দেওয়া স্টারমারের জনপ্রিয়তা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কমে গেছে। একাধিক বিতর্ক, কেলেঙ্কারি এবং নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে দলের ভেতরেও তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, হাউস অব কমন্সে লেবার পার্টির শতাধিক এমপি প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ অথবা ক্ষমতা ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ আরও জোরালো হয় শুক্রবার, যখন তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা বার্নহ্যামকে অনেকেই স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। যদিও তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানাননি, তবে বিজয় বক্তৃতায় দেশের জন্য নতুন পথের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এদিকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসকে সরিয়ে দিতে পারেন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। শুক্রবার স্টারমার নিজেও বলেছেন, নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবিলা করবেন এবং দলীয় বিভাজনের মাধ্যমে লেবার পার্টিকে আত্মবিধ্বংসী পথে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যদি স্টারমার পদত্যাগ করেন বা তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে গত এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য তার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাবে। বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ এই সংকট এখন ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনেই স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স।



