স্থানীয় সংবাদ

নগরীতে শিশু শিক্ষার্থীকে বর্বরোচিতভাবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ

# শরীরে আঘাতের চিহ্নযুক্ত কয়েকটি ছবি ভাইরাল
# স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি

শেখ মোঃ জাকির হোসেন, খুমেক প্রতিনিধি ঃ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার ডাক্তারপাড়া গলির একটি হেফজখানায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্নযুক্ত কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার শিশু ইসমাইল (৮) নগরীর নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমির শিক্ষার্থী। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যাওয়ার দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে হেফজখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির পিতা ফারুক। তিনি বলেন, কোনো টাকার লেনদেন হয়নি। গত শনিবার রাতে প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতিতে আংশিক সমঝোতা হয়েছে। বাচ্চার চিকিৎসার খরচ বহনের কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ। মামলা-মোকদ্দমা করে আদালতে ঘুরে বেড়ানোর সামর্থ্য বা ইচ্ছা আমার নেই, তাই মামলা করতে রাজি নই। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে তিনি অনিচ্ছুক। ঘটনার বিষয়ে নুরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিশুটিকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমরা শিশুটির পরিবারকে আইনগত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের একটি অংশের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের প্রতি শারীরিক শাস্তি ও নির্যাতনের অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য, প্রশাসনিক অনুসন্ধান এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button