বিশ্ব বাবা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে স্মরণ করলেন উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক

দিঘলিয়া প্রতিনিধিঃ
গতকাল রবিবার ছিল বিশ্ব বাবা দিবস। পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন। এই বিশেষ দিনে উপজেলা প্রেসক্লাব দিঘলিয়ার প্রচার সম্পাদক মোঃ জাহিদ হোসেন গভীর শ্রদ্ধা ও বেদনার সঙ্গে স্মরণ করলেন তার প্রাণপ্রিয় শ্রদ্ধেয় বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম কালু খানকে।
১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি, এক কনকনে শীতের শুক্রবারে তিনি তার পরিবারের সকল স্বজনদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান। তাঁর মৃত্যুতে পুরা পরিবারটি হয়ে পড়ে অসহায় ও এতিম। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গিয়েছিলেন তাঁর সহধর্মিণী রেনু বেগম, দুই কন্যাÑফাতেমা ও কুলসুমা এবং দুই পুত্রÑমানিক খান ও জাহিদ খানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষী।
বাবার মৃত্যুর পর শুরু হয় উপজেলা প্রেসক্লাব দিঘলিয়ার প্রচার সম্পাদক মোঃ জাহিদ হোসাইনদের পরিবারের কঠিন সংগ্রামের জীবন। মা রেনু বেগম অসীম ধৈর্য, সাহস ও ত্যাগের মাধ্যমে সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তিনি নানা কষ্ট ও অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই মেয়েকে মধ্যবিত্ত পরিবারে বিয়ে দেন। বড় ছেলে মানিক খানকে মাত্র ৪ বছর বয়সে তার ফুফুর বাড়িতে খুলনায় রেখে দিতে বাধ্য হন। আর ছোট ছেলে জাহিদ খানকে বুকের মাঝে আগলে রেখে আজও বেঁচে আছেন তিনি।
বাবা চলে যাওয়ার পর আত্মীয়-স্বজন ও গুণীজন থাকলেও বিপদের দিনে কেউ তেমনভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেননি। জীবনের কঠিন বাস্তবতা আমাদের শিখিয়েছে যে, সমাজে অনেকেই নিজেদের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। এতিম, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো আজ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। অথচ একজন মানুষের বেঁচে থাকার জন্য কখনো না কখনো অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়।
আজকের সমাজে স্বার্থপরতা যেন মানবিকতার স্থান দখল করে নিয়েছে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী কিংবা অসহায় মানুষের খোঁজ নেওয়ার মানসিকতা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা আমাদের কষ্ট দেয়, আবার মানবিক সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।
জাহিদের বাবা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি একটি বিশাল বটবৃক্ষের মতো ছায়া হয়ে ছিলেন তার গোটা পরিবারের প্রতি। যেমন একটি বৃক্ষের ছায়ায় মানুষ শান্তি ও শীতলতা খুঁজে পায়, তেমনি বাবার স্নেহ, ভালোবাসা ও আশ্রয় সন্তানের জীবনে নিরাপত্তা ও সাহসের উৎস হয়ে থাকে। একজন বাবা তাঁর সন্তানের জন্য জীবনের সব কষ্ট নীরবে সহ্য করেন এবং নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন।
বিশ্ব বাবা দিবসে জাহিদ হোসাইন এ প্রতিবেদককে জানান, “আমি আমার প্রিয় বাবা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম কালু খানসহ পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। মহান আল্লাহ আমার বাবাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন এবং পৃথিবীর সব বাবাকে সুস্থ, সুন্দর ও দীর্ঘ জীবন দান করুন।
বাবা, তুমি নেই, কিন্তু তোমার স্মৃতি, তোমার ত্যাগ ও তোমার ভালোবাসা আজও আমাদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে ও থাকবে ইনশাআল্লাহ।”



