খুলনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা : আহতরা খুমেক হাসপাতালে

স্টাফ রিপোর্টার ঃ খুলনা নগরীর ইকবাল নগর এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ একটি জমি দখল করে দোকান ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে প্রতিবাদ ও সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে গণমাধ্যম কর্মিরা হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার রায়হানসহ আহত কয়েকজন খুমেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইকবাল নগর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়হানের বাড়ি দখলের চেষ্টা নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিত-া শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি হামলায় রূপ নেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় কয়েকজন ব্যক্তি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং নগর প্রশাসককে নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী আবুল হাসান মোল্লার দাবি, বানিয়াখামার মৌজার প্রায় সাড়ে ১০ কাঠা জমি নিয়ে তাদের পরিবারের মধ্যে প্রায় ৩৭ বছর ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে ১৯৮৯ সালে বাটোয়ারা মামলা দায়ের হয়। ১৯৯৭ সালে এবং পরে ২০০৪ সালে আপিলেও বাদীপক্ষের অনুকূলে রায় আসে। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে (মামলা নং-৩৬১/১৬)। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিচারাধীন অবস্থায় এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা ও আব্দুল ওয়াদুদ মোল্লা ওরফে গুটু বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রেখেছেন। থানা, কেডিএ ও কেসিসিতে অভিযোগ ঃ সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল খুলনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ এবং ২৭ এপ্রিল সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ১৭ মে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-এও অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। কেডিএর পরিদর্শকরাও এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন স্থাপনা নির্মাণের জন্য বিরোধপূর্ণ জমির ভেতরে প্রবেশ করে দেয়াল নির্মাণ, মাটি ভরাট ও ঢালাইয়ের প্রস্তুতি চলছে। অবৈধ স্থাপনা ও পরিবেশ দূষণের অভিযোগও স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একই এলাকায় কয়েকটি দোকান ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় কাঠের কারখানা পরিচালনার ফলে শব্দ ও বায়ুদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৪ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। সাংবাদিক রায়হানের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগের পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। ভুক্তভোগীরা আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



