স্থানীয় সংবাদ

খুলনায় গ্রেফতার হচ্ছে সন্ত্রাসী : তবু থামছে না হত্যাযজ্ঞ

# ঢাকায় ডিবির অভিযানে অস্ত্রসহ ‘বি কোম্পানি’র ৫ সদস্য গ্রেপ্তার #
# প্রেসবিফ্রিংয়ে ডিবির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার : কোন সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না #

কামরুল হোসেন মনি : খুলনা মহানগরীতে তালিকাভুক্ত ১৮১ সন্ত্রাসী, ৫৮৪ মাদক কারবারি ও ৬৯ চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। অভিযানের অংশ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘বি কোম্পানি’র পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা এলাকার বাসিন্দা এস এম আইয়ুব আলীর পুত্র মো. আবরার ফয়সাল ওরফে বাদিন (২৪), শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নূর ইসলামের পুত্র মো. আল-আমিন (২৯), একই এলাকার বাসিন্দা মো. রুহুল আমিনের পুত্র মো. তুষার শিকদার (৩৮), খালিশপুরের খালাসী বাড়ি মাদ্রাসার পেছন এলাকার বাসিন্দা গাউসুল আজমের পুত্র মো. আসিফ (২৫) এবং টুটপাড়া জোড়াকল বাজার এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের পুত্র মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির (১৮)।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে বিশেষ অভিযানের মধ্যেও গত ১৪ দিনে নগরীতে দুইটি হত্যাকা- ও মসজিদে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চলমান ছিলো। এ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘বি কোম্পানি’র সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি আরও জানান, রাফিন ও আসিফের কাছে অস্ত্র আছে। আমরা গোবরচাকা এলাকার বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, “খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। কোনো সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে বিশেষ অভিযান চলাকালেই ২ জুন কৃষ্ণনগর এলাকায় রাশেদ কাজী এবং ১২ জুন দক্ষিণ লবণচরে বিএনপি নেতা গাজী রফিক ওরফে ঢাকাইয়া রফিক হত্যার ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১৪ জুন দৌলতপুরের পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে গুলিবর্ষণের ঘটনায় লোকমান হাকিম ও আলম ম-ল গুলিবিদ্ধ হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে কেএমপি এলাকায় ১৬টি হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে। আর ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৭। এ অবস্থায় বিশেষ অভিযান ও ধারাবাহিক গ্রেপ্তারের পরও নগরীতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের তৎপরতা এবং সহিংস ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button