স্থানীয় সংবাদ

খালিশপুর হাউজিং এলাকায় মারধর, ভাঙচুরের ঘটনায় ১০ জনকে আসামী করে মামলা

স্টাফ রিপোর্টারঃ নগরীর খালিশপুর হাউজিং বাজার এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা তিনজনকে মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। গত ৬ জুন সকালে হাউজিং বাজার ১নং বিহারী ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। ্এ ঘটনায় দুপুরে থানায় অভিযোগ দেয়ার অপরাধে বিকেলে আবারো হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে থানা অভিযোগটি রেকর্ড না করায় ভিকটিম আদালতে মামলা দায়ের করেন। গত ১৮ জুন ইরফান হোসনে বাদী হয়ে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর আমলী আদালত খালিশপুরে ১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৮৬/২৬। শুনানী শেষে আদালত মামলাটি নগর গোয়েন্দা শাখাকে তদন্ত দেন। আগামী ১৭ জুন পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়। আসামীরা হলেন মোঃ রানা (৪২), মোঃ কালু (৩৭), মোঃ জসিম (৪৭), মোঃ শুভ (২২), আজম (৩২), জয়(২২) নাজনিন (৩০)সহ অজ্ঞাত ২/৩ জন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, “আমি ইরফান হোসেন (৩১), পিতা- মোঃ ইসরাফিল, বাসা/হোল্ডিং : ৬৫, ১নং ক্যাম্প, খালিশপুর, খুলনার বাসিন্দা। এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করছি, বিবাদী রানা, জসিম, কাল্লু, শুভ, নাজনীন, সর্ব পিতা- মৃতঃ নাসির খান, মাতা- সালমা বেগম, সর্ব বাসা/হোল্ডিং: এইচ/১৭, ১নং ক্যাম্প, খালিশপুরের বাসিন্দা। বিবাদীরা ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, কলহ-দাঙ্গাবাজ, সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। বিবাদীরা দীর্ঘদিন যাবত জামিলের মোড়ে অবস্থিত আমাদের মালিকানাধীন দোকান ঘর অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টা করে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বিবাদীরা বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা দায়ের করে, ধারালো অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে প্রান নাশের চেষ্টা করে আসছিল। ৬ জুন সকাল ১০টায় দিকে ১নং বিবাদী আমাকেসহ আমার পরিবারের সদস্যদের বিনা উস্কানিতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আমার বৃদ্ধ অসুস্থ পিতা মোঃ ইসরাফিল (৫৫) অন্যায় আচরনের প্রতিবাদ করলে ৫নং বিবাদী আমার পিতাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমার পিতাকে বাঁচাতে আমার মাতা সালমা (৫০) ও বোন লিজা (৩০) এগিয়ে এলে বিবাদীরা আমার মা ও বোনকে চুলের মুঠি ধরে এলোপাথারী কিল, লাথি, ঘুষি মেরে, নখ দিয়ে আচড়ে গলা, মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক নীলা, ফোলা, চাপা জখম করে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসলে বিবাদীরা আমাকেও এলোপাথারী কিল, লাথি, ঘুষি মারতে থাকে। মারধরের ১নং পর্যায়ে ২নং বিবাদীর হাতে থাকা কাঠের বাতার আঘাতে আমার পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি ডিসপ্লে ভেঙ্গে নষ্ট হয়ে যায়। ১নং বিবাদী আমার দোকানের এসি ক্রয় বাবদ দেওয়া কাষ্টমারের দেওয়া সত্তর হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে নেয়। আমাদের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা এগিয়ে এলে বিবাদীরা বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমাদের পুনরায় মারধরসহ প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আমার আহত মাকে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমি ধারনা করছি বিবাদীরা যে কোন মুহুর্তে আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতিসহ প্রাননাশ ঘটাতে পারে। বিধায় আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তাহীনরতায় ভূগছি।” বাদী আরো জানান, থানায় অভিযোগ দেয়ার অপরাধে বিকেলে সন্ত্রাসীরা আবারো তাদের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। না পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা নিয়ে এলাকাবাসীর সামনে কুপাতে আসে। আমরা ভয়ে দৌড়ে সরে যাই। তিনি বলেন, গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় পর্যায়ে দোকান ঘর দখল নিয়ে একটি শালিস হয়। ওই শালিসনামা তারা ভঙ্গ করেছে। এছাড়া আসামী নাজনীন সবার সামনে হুমকি দিয়ে বলেছে,“আমার সাথে বাড়াবাড়ি করলে নিজেই হাতপা কেটে তোদের বিরুদ্ধে মামলা দিব।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button