খুলনার আব্দুল্লাহ আল মাইমুন খুলনা বিভাগে ৪র্থ

# দেশসেরা বিতর্ক প্রতিযোগিতা #
# দেশের ৬৫,৫৬৯টি স্কুলের মধ্যে ৪র্থ স্থান অর্জন #
স্টাফ রিপোর্টার ঃ লেখাপড়ায় শীর্ষস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি সহশিক্ষা ও মেধা বিকাশে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল বটিয়াঘাটা উপজেলার মোহাম্মদ নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর অন্তর্গত জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অনন্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে বিদ্যালয়টির বালক দল। গ্লোবাল টিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান ও খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য এম এ কবির (কবির মুন্সী) এর পুত্র খুলনার আব্দুল্লাহ আল মাইমুন বিদ্যালয়টির বালক দলে অনন্য স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি সারাদেশে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্য থেকে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ৪র্থ স্থান অর্জন করেছেন। ইতিপূর্বে সারা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ স্কুলের গৌরব অর্জন করা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এবার বিতর্কেও দেশসেরাদের তালিকায় নিজেদের নাম লেখাল। মেধা, যুক্তি আর বাচনভঙ্গির নৈপুণ্যে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় স্কুলটি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় সারা দেশের ৬৫,৫৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৯৫টি উপজেলা ও ৮টি বিভাগের সাথে লড়াই করে দেশসেরা চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে খুলনা বিভাগের মোহাম্মদ নগর প্রাথমিক বিদ্যালয় বালক দল। বিজয়ী দলের সদস্য ও নেপথ্যের কারিগররা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় গৌরবোজ্জ্বল এই সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে মোহাম্মদ নগর স্কুলের একঝাঁক ক্ষণজন্মা খুদে বিতার্কিক। দলের সদস্যরা হলেনÑ পঞ্চম শ্রেণীর ‘গোলাপ’ শাখার শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাইমুন, একই শাখার মোহাম্মদ রিশাদ, চতুর্থ শ্রেণীর ‘শিউলি’ শাখার মো: মুহতসিম মাহদী এবং পঞ্চম শ্রেণীর ‘গোলাপ’ শাখার তাহালিল তোহা মাহিন। শুরু থেকেই এই খুদে বিতার্কিকদের নিবিড় প্রশিক্ষণ ও মমতাময়ী মায়ের মতো স্নেহ দিয়ে তৈরি করেছেন মোহাম্মদ নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও বিতর্ক কোচ মোর্শেদা বাঁধন এবং কিশলয় আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ইন্দ্রা রানী ঘোষ। এ সময় শিক্ষার্থীদের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রদান করেন মোহাম্মদ নগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: মনিরুজ্জামান ময়না, অভিভাবক মো: রফিকুল ইসলাম এবং শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাইমুনের পিতা, সাংবাদিক আনিছুর রহমান কবির। খুলনা জুড়ে আনন্দের জোয়ার খুদে বিতার্কিকদের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে পুরো খুলনা বিভাগ জুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। বিশেষ করে প্রতিযোগিতায় মোহাম্মদ নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বালক ও বালিকা দলের সুনিপুণ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বিচারকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সাবলীল বক্তব্য এবং ক্ষুরধার উপস্থিত বুদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই জয় শুধু সুনির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি খুলনা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। খুদে বিতার্কিকদের এই সাফল্যে গর্বিত বটিয়াঘাটা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই কৃতী শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসীর জোরালো প্রত্যাশা, আগামীতে এই সন্তানরা মেধার আরও উজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে খুলনার মুখ বিশ্বমঞ্চে উজ্জ্বল করবে। সাফল্যম-িত এই দলটিকে অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা বলেন, “আমাদের খুদে শিক্ষার্থীরা যেভাবে জাতীয় মঞ্চে বিতর্কে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তাদের এই অর্জনে আমরা সত্যিই গর্বিত। সঠিক দিকনির্দেশনা ও উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে তারা ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে।” উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিজয়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে এ ধরনের বিতর্ক প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের এমন সৃজনশীল ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তারা। প্রতিযোগিতার পটভূমি উল্লেখ্য, গত ২৯শে এপ্রিল বুধবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, সারা বাংলাদেশের খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এবার প্রাথমিক জাতীয় শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও বিষয়ভিত্তিক কুইজÑ এই তিন ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ক্রীড়া বিষয়ক প্রতিযোগিতা: ১০০ মিটার দৌড়, দীর্ঘ লাফ, উচ্চ লাফ, ভারসাম্য দৌড় ও অংক দৌড়। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা: কবিতা আবৃত্তি (বাংলা), চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, গল্প বলা, পল্লীগীতি/ভাওয়াইয়া/ভাটিয়ালী/মুর্শিদী/লোকগীতি/লালন গীতি, দেশাত্মবোধক গান, রবীন্দ্র সংগীত/নজরুল গীতি, হামদ-নাত, একক অভিনয়, উপস্থিত বক্তৃতা এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা (আন্তঃউপজেলা ভিত্তিক)। বিষয়ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা: বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়ে গত ১৯শে মে থেকে ২০শে মে, উপজেলা পর্যায়ে ২২শে মে থেকে ২৩শে মে, জেলা পর্যায়ে ৬ই জুন থেকে ৭ই জুন এবং আঞ্চলিক বা বিভাগীয় পর্যায়ে ৮ই জুন থেকে ৯ই জুন পর্যন্ত প্রতিযোগিতাগুলো সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। আর এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে জাতীয় মঞ্চে চতুর্থ স্থান অধিকার করে ইতিহাস গড়ল খুলনার মোহাম্মদ নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়।


