স্থানীয় সংবাদ

মোংলায় পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে নির্যাতন ও নারীকে মারধরের অভিযোগ

মামলা নেয়নি পুলিশ, চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার : মোংলায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সাবেক বনদস্যুদের হামলায় নাজমা রায়হান (৪৫) নামের এক নারীসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। গভীর রাতে ‘পুলিশ’ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে যুবকদের নির্যাতন এবং পরবর্তীতে এর প্রতিবাদ করায় ওই নারীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। তবে এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। উল্টো আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং ভুক্তভোগীদের হুমকি দিতে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোংলা পৌর শহরতলীর ১ নং ওয়ার্ডের মাছমারা এলাকার বাসিন্দা নাজমা রায়হানের পরিবারের সাথে একই এলাকার মানিক তালুকদার, তারেক ব্যাপারী, রিংকু ডাকাত, রেজাউল করিম শুভ, মাসুম হাওলাদার ও মোঃ ইদ্রিসের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল মূল বিরোধের উৎস নাজমার রায়হান এর মায়ের বাড়িতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তিনবার চুরিসহ ডাকাতি হয় লিখিত অভিযোগ করেও তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত মানিক ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। মানিকের মা তারা বেগমও সম্প্রতি একটি মাদক মামলায় কারাভোগের পর জামিনে বের হয়েছেন। অন্যদিকে, তার সহযোগী রিংকু হালদার সুন্দরবনের একজন সাবেক তালিকাভুক্ত বনদস্যু, যে পূর্বে মোংলা পৌরসভার পানি সরবরাহ বিভাগে নৈশপ্রহরীর চুরির দায়ে চাকরিচ্যুত হয়েছিল।
গত ২১ জুন (রোববার) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে মূল পরিকল্পনাকারী রিংকু ডাকাত, মানিক তালুকদার ও তারেক বেপারীসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১৫ জন সন্ত্রাসী ‘পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে নাজমা রায়হানের বোনের বাড়ির ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নাজমা রায়হানের ছেলে শাহিন আহমেদ সানি (২৫) ও স্বজন মোঃ নুর আলমকে (৩৫) ঘরের ভেতর আটকে রেখে দীর্ঘ এক ঘণ্টা ধরে বর্বর নির্যাতন চালায়। সন্ত্রাসীরা তাদের মারধর করে জোরপূর্বক মাদক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। গুরুতর নির্যাতনের পর দুই যুবক জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সন্ত্রাসীরা তাদের মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়।
প্রতিবাদ করায় নারীকে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে জখম
ঘটনার পরদিন সকালে ভুক্তভোগী নারী নাজমা রায়হান তার ছেলেদের ওপর হওয়া অন্যায় নির্যাতনের কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সন্ত্রাসী বাহিনী। দুপুরে মানিক, তারেক, রিংকু ডাকাতসহ ১২ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাজমা রায়হানের বাড়িতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
এ সময় নাজমা রায়হানকে লক্ষ্য করে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো ও মারধর করা হয়। সন্ত্রাসীদের নির্মম পিটুনিতে তার মুখ, হাত, পা ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর চিকিৎসাধীন নাজমা রায়হান বাদী হয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মোংলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়: মাছমারা এলাকার রিঙ্কু ডাকাত (৫০), মানিক তালুকদার (৪৮), পিতা: ফিরোজ তালুকদার, কুমারখালী এলাকার ইদ্রিস (৩৭), রেজাউল করিম শুভ (৩৭), মাছমারা এলাকার তারেক বেপারী (৪৫), পিতা: নুর ইসলাম ব্যাপারী ও রবিউলকে (৪৫)। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরও মোংলা থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে মামলাটি রেকর্ড করেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বর্তমানে মূল অভিযুক্ত মানিক, তারেক ও সাবেক বনদস্যু রিংকুসহ আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা দায়ের না করার জন্য তারা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে বিভিন্নভাবে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। পুলিশের এমন একপেশে ও রহস্যজনক ভূমিকা এবং আসামিদের অব্যাহত হুমকির মুখে পুরো পরিবারটি এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইন্সপেক্টর আতিকুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button