স্থানীয় সংবাদ

‘জাতীয় নগর নীতি-২০২৫ : শহর পর্যায়ে অবহিতকরণ’’ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক মঞ্জু

স্টাফ রিপোর্টার ঃ বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুত নগরায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে। এই নগরায়ন যেমন আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে, তেমনি আবাসন, অবকাঠামো, পরিবেশ, নগর সেবা এবং সামাজিক বৈষম্যের ওপর নতুন নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। এই বাস্তবতায় জাতীয় নগর নীতি প্রণয়ন একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী উদ্যোগ। এই নীতিমালা বাংলাদেশের নগর উন্নয়নকে একটি সমন্বিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জলবায়ু সহনশীল কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসবে এবং ভবিষ্যতের নগর ব্যবস্থাপনাকে আরও পরিকল্পিত, টেকসই এবং জনগণকেন্দ্রিক করার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরী করবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু মঙ্গলবার সকালে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘‘জাতীয় নগর নীতি-২০২৫ শহর পর্যায়ের অবহিতকরণ’’ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর কারিগরি সহায়তায় স্থানীয় সরকার বিভাগ-এর উদ্যোগে খুলনায় গতকাল এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অবকাঠামোগত চাপ, পরিবেশগত অবয় এবং সামাজিক বৈষম্য বিবেচনায় টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করার ল্েয জাতীয় নগর নীতি-২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতি বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, নগর পরিকল্পনাবিদ, একাডেমিশিয়ান, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। খুলনা শহরের প্রোপটে এই নীতির গুরুত্ব অনেক বেশি উল্লেখ করে প্রশাসক আরো বলেন, খুলনা দণি-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র এবং একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নগরী। জাতীয় নগর নীতি ২০২৫-এর সফল বাস্তবায়নে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সকল অংশীজনের সমন্বিত ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন এবং নগর দারিদ্রতার মতো চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় সমন্বিত ও টেকসই নগর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জাতীয় নগর নীতির মূল ল্য, কৌশল ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ের অগ্রাধিকার, প্রাতিষ্ঠানিক সমতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরী বলে কর্মশালায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নগর উন্নয়ন বিশেষজ্ঞগণ মতামত ব্যক্ত করেন। তারা বাংলাদেশের টেকসই নগর উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্য সরকারের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বে বাস্তবায়িত কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত উন্নয়ন পদ্ধতি অনেক গুরুত্ববহ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া কর্মশালায় প্রত্যাশিত ফলাফল হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সমতা বৃদ্ধি, অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, শহরভিত্তিক অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং জাতীয় নগর নীতির মূলনীতি স্থানীয় পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বৃটিশ হাইকমিশনের কাইমেট এন্ড লাইভলিহুড এডভাইজার এবং ডেপুটি টীম লিডার এবিএম ফিরোজ আহমেদ, কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ ডিসিপ্লিনের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো: জাকির হোসেন, এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ইউআরপি বিভাগের প্রফেসর ড. মোরশেদ মনজুর। স্বাগত বক্তৃতা করেন ইউএনডিপি’র সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েট-এর নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাকিল আখতার এবং নগর নীতিমালার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপি’র প্রজেক্ট অ্যানালিস্ট এস. এম. আবদুল্লাহ আল মাসুম।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button