খেয়াঘাটের ইজারাদার, টাকা নিচ্ছেন ফেরির যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে

রেলিগেট নগরঘাট ইজারাদারের পোয়াবারো #
স্টাফ রিপোর্টার : ইজারা নিয়েছেন খেয়াঘাটের, টাকা নিচ্ছেন ফেরি পারাপার হওয়া যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে। বিআইডব্লিউটিএ নিযুক্ত ইজারাদার শেখ আলি আকবর জোর পূর্বক ভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খেয়া পারাপারের জন্য সরকারের নির্ধারিত টাকা আদায়ের নিয়ম থাকলেও নিয়মের তোয়াক্কা করেন না তিনি।
খুলনা মহানগরীর রেলিগেট (নগরঘাট) দিঘলিয়া উপজেলার মধ্যবতী ভৈরব নদীতে চালু হওয়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের ফেরি পারাপার হওয়া যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে এই টাকা আদায় করছে বিআইডব্লিউটিএ নিযুক্ত খেয়াঘাট ইজারাদার মো: আলী আকবরসহ তার লোকজন। এতে প্রতিদিন খেয়াঘাট ইজারাদারের অত্যাচারে চরম ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছে খুলনা মহানগরী ও দিঘলিয়া উপজেলাসহ আশপাশের কয়েক উপজেলার সাধারণ মানুষ এবং যানবাহন ড্রাইভার।
সরেজমিনে রেলিগেট-নগরঘাট ফেরিঘাটে দেখা যায়, নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলা, খুলনার তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার মানুষ জীবন-জীবিকার জন্য প্রতিনিয়ত ভৈরব নদী ফেরি পারপার হয়ে খুলনা মহানগরীতে যান। দিঘলিয়া উপজেলায় কয়েকটি জুট টেক্সটাইল মিল থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকে করে কাঁচা পাট নিয়ে ফেরি পারাপার হয়। পরে আবার জুট টেক্সটাইল মিল থেকে কাচাঁ পাট ও পাটজাত দ্রব্য নিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে থাকেন। এছাড়াও দিঘলিয়া উপজেলার লাখোহাটি গ্রাম থেকে সাদা মাছের পোনা প্রতিদিন পিকআপে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। খাদ্যশষ্য, গো-খাবার, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালামাল, সিমেন্ট, ই্ট, বালু, মুদি দোকানের মালামাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাচাঁমালসহ প্রতিদিন ট্রাক ও পিকআপে করে অসংখ্য যানবাহন রেলিগেট-নগরঘাট মধ্যবতী ভৈরব নদীতে ফেরি পারাপার হয়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খুলনার বিআইডব্লিউটিএ নিযুক্ত খেয়াঘাট ইজারাদার মো: আলী আকবরের লোকজন ফেরিঘাটের পথে চেয়ার-বাশঁ দিয়ে আটকে রেখে অবৈধভাবে ইচ্ছামত টাকা আদায় করছেন। টাকা না দিয়ে কেউ যেতে পারছে না। এছাড়াও সাধারণ যাত্রীদের থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে যাত্রীদের সঙ্গে হচ্ছে চরম বাগ-বিতন্ডা এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। তাছাড়া প্রত্যেক খেয়াঘাটে একটি খেয়ার নৌকা রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। আর এসব অধিকাংশ খেয়াঘাটগুলি স্থানীয় ও বহিরাগত প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই ইজারা নিয়েছেন। টাকা আদায়ে কিছু চিহ্নিত ব্যক্তিদের বসিয়েছেন ঘাটে। তারা সরকারি মূল্য তালিকা ছাড়াই যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছেন দ্বিগুণ টাকা বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বাস, মিনিবাস, মাইক্রো, প্রাইভেটকার, ইজিবাইক, মটর সাইকেল, ভ্যান, বাইসাইকেল, গরু, ছাগলসহ ব্যবসায়ীসহ বিআইডব্লিউটিএ নিযুক্ত খেয়াঘাট ইজারাদার মো: আলী আকবরের লোকজন হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
এসিআই কোম্পানির ট্রাক ড্রাইভার মো: ইয়াসিন আলী এ প্রতিবেদককে বলেন, প্লাস্টিকের পাইপ নিয়ে দিঘলিয়া উপজেলার পথেরবাজার যাব। ফেরি পার হওয়ার আগেই রেলিগেট প্রান্তে চেয়ার-বাঁশ দিয়ে আটকে রেখে বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদারের লোকজন দুইটি রশিদ ধরিয়ে যাওয়া-আসা বাবদ ১৫০ টাকা নেয়। ভাই আমরা বোবা, কারণ আমরা দূরদূরান্ত থেকে আসি কথা বললেই নাকি মার খেতে হয়।
যশোর নওয়াপাড়া থেকে শাহ সিমেন্ট কোম্পানির ট্রাক ড্রাইভার কিবরিয়া মাতুব্বর এ প্রতিবেদককে বলেন, ভাই ফেরিতে উঠার আগেই বিআইডব্লিউটিএ ইজারাদারের লোকজন দুইটা রশিদ ধরিয়ে দিয়ে ১৫০ টাকা দিতে হবে বাধ্যতামূলক। টাকা না দিয়ে ফেরিতে উঠার কোন সুযোগ নেই। কারন চেয়ার-বাঁশ দিয়ে আটকে রাখছে ফেরিতে উঠার রাস্তা।
ওষুধ কোম্পানির এক প্রতিনিধি বলেন, অফিসের কাজে প্রায় খুলনা মহানগরী থেকে দিঘলিয়ায় যেতে হয়। কিন্তু এ ঘাটে মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রলারে পার হই, আর ফেরিতে পারাপার হই, খেয়াঘাট ইজারাদারকে টাকা দিতে হয়। এজন্য কোনো রশিদ দেয় না তারা। যে কারণে অফিসে বিলের ভাউচারও দিতে পারি না।
এ বিষয়ে খেয়াঘাটের ইজারাদার শেখ আলি আকবার সাথে কথার বলার জন্য তার ব্যবহৃত ফোনে একাধিকবার ফোন করলে বন্ধ
পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে খুলনা বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ এ প্রতিবাদককে বলেন, খেয়াঘাটের ইজারাদার শুধু খেয়াঘাটের টাকা নিবে। ফেরির যানবাহন ও যাত্রীদের কাছ থেকে কেন টাকা নিবে। ফেরির যানবাহন ও যাত্রীদের কাছে থেকে টাকা আদায়ের কোনো নিয়ম নেই। যদি তারা এ রকম কাজ করে থাকে তাহলে সম্পূর্ণ অবৈধ। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খুলনার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: তানিমুল হক এ প্রতিবেদককে বলেন, রেলিগেট-নগরঘাট ফেরি পারাপার হওয়া যানবাহনের ও যাত্রীদের কাছ থেকে বিআইডব্লিউটিএর ইজাদার মো: আলাী আকবর যে টাকা আদায় করছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। খুলনা সড়ক ও সওজ বিভাগ থেকে বিআইডব্লিউটিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।



