স্থানীয় সংবাদ

খুলনার দৌলতপুরে আত্মহত্যার প্ররোচনায় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা : গ্রেপ্তার নেই

# ৫ আসামীর নাম উল্লেখ করে নিহতের ভাইয়ের মামলা, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি #
# পুলিশ বলছে : মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলছে, আসামী গ্রেপ্তারে অভিযানও চলছে, #

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডস্থ দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকায় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. ছালাম গাজীর পুত্র সৈকত (২৮) নামের এক যুবকের আত্মহত্যার প্ররোচনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দৌলতপুর দেয়ানাসহ প্রায় সর্বত্র আলোচনা ও চাঞ্চল্যতার সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. সাগর গাজী বাদী হয়ে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে একই উদ্দেশ্যে আটক করে মারধর করতঃ আত্মহত্যার সহায়তা করার অপরাধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৫, ২৪ জুন ২০২৬ ইং)। মামলা আসামীরা হলেন- ১. দেয়ানা মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর মিয়া শেখ’র পুত্র নবী, ২. একই এলাকার মৃত: জামির শেখের পুত্র নুর মিয়া শেখ, ৩. নুর মিয়া শেখের পুত্র রুবেল শেখ, ৪. একই এলাকার আনিসের পুত্র রাসেল, ৫. একই এলাকার মৃত: জামির শেখের পুত্র জাহাঙ্গীর। নিহতের মত্যৃর ঘটনার পর মামলা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশে কোনো আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারে নাই।
এজাহার ও বাদীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা আসামী নবী (৪২) এর নির্মাধীন বাড়ীতে উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. ছালাম গাজীর মেঝ পুত্র নিহত সৈকত রাজমিস্ত্রির হেলপার হিসাবে কাজ করতো। গত মে মাসের ২৫ তারিখে সকালে প্রতিদিনের ন্যায় সে কাজে গেছে গেলে ১নং আসামী তাকে গির্জারের ব্যাগ কই বলে জিজ্ঞাসা করে, প্রতি উত্তরে সৈকত ঘরের ভেতরে রাখছিলাম বলে। তার কথা না শুনে আমার ভাইকে চুরির অপবাদ দিয়ে ১ নং আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা ঘরের ভেতর আটকে রেখে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করে। লোকমুখে জানতে পারি এজাহারে উল্লেখকৃত আসামীরা আমার ভাইকে আটকে রেখে মারধর করছে। অতঃপর আমি ও আমার মা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে ১ নং আসামী আমিসহ আমার মাকে চোর অপবাদ দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারমুখি হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল হতে আমার ভাইকে নিয়ে বাড়ীতে চলে আসি। বাড়ীতে এসে ছোট ভাই বলতে থাকে, আমাকে নবী মিথ্যা চোরের অপবাদ দিয়েছে। আমার কারনে আমার মা ও ভাইয়ের স¤œান নষ্ট হলো, এসব কথা বলতে বলতে ঘরে থেকে বের হয়ে যায় এবং গত মে মাসের ২৫ তারিখে দুপুর ২ দিকে দৌলতপুরস্থ কল্পতরু মাঠের পূর্ব পাশে টিএমএসএস অফিসের সামনের পাঁকা রাস্তার উপর সৈকত ১ নং আসামীসহ এজাহারে উল্লেখকৃত আসামীদের উপর অভিমান করে বন (ঘাস) মারা বিষ খেয়ে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করে। ওই সময় অজ্ঞাত এক রিক্সাচালক ছোট ভাইকে বাড়ীতে এসে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই দিনই সৈকতকে নিয়ে আমিসহ আমার পরিবারের লোকজন খুমেক হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। সর্বশেষ, গত, ২৪ জুন ২০২৬ ইং (বুধবার) বিকালে ৫ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত হয়। মৃত্যুর কারণ হিসাবে চিকিৎসক মৃত্যু সনদে আগাছা নাশক বিষ ক্রীয়া ( চধৎধয়ঁবঃ চড়রংড়হরহম) তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। ময়নাতদন্ত ও সকল আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ২৫ জুন (বৃহস্পতিবার ) দুপুরের পর মরদেহ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই দিন বাদ আসর দেয়ানা উত্তরপাড়া ঈদগাহ্ েজানাযা নামাজ শেষে দেয়ানা উত্তরপাড়া কৃষি কলেজ সংলগ্ন কবরখানায় দাফন সম্পন্ন হয়। তার এই মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়াসহ সর্বত্র আলোচনা ও চাঞ্চল্যতার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ বলছে, মে মাসে ঘটনার ঘটার পর থেকে ওই ভিকটিম ও ভিকটিম পরিবারের সাথে আমরা যোগাযোগ রেখেছি। সর্বশেষ, বুধবার ( ২৪ জুন, ২০২৬ ইং) তারিখ বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈকত নামের ওই যুবক মারা যায়। প্রাথমিক সুরতহাল, ময়নাতদন্ত ও সকল আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকালে নিহতের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ভিকটিমের বড় ভাই বাদী হয়ে এজাহারে ৫ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্তের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে আমরা কাজ করছি এবং অভিযান ও অব্যহত রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো বলে আশাবাদী। অপরদিকে, মামলার বাদী ও সৈকত হারা পরিবারের স্বজনেরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এ নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসনের নিকট।
মামলার বাদী মো. সাগর গাজী জানান, আমার ভাইকে চোরের অপবাদ দেওয়ার কারনে সে এজাহার নামীয় আসামীদের উপর অভিমান করে বিষক্রীয়া পান করে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। ছোট ভাইকে হারিয়ে আমার পরিবার পাগলপ্রায়। আমি আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
নিহতের পিতা মো. ছালাম গাজী জানান, মে মাসের ২৫ তারিখে সাগরকে নবীসহ ৫ জন পিটিয়ে জখম করে। শুনতে পেয়ে বড় ছেলে ও তার মাকে ওই বাড়ীতে পাঠালে যেতে বলি, তখন আমি দোকানে ছিলাম। তারা সেখানে গিয়ে দেখে ওকে চোরের অপবাদ দিয়ে বেদম মারপিট ও জখম করে আটকে রেখেছে। তারপর বাড়ীতে এসে আবার ঘরে বাইরে চলে যায় সৈকত। ওই আসামীদের উপর অভিমান করে আমার ছেলে বন মারা বিষ খায়। প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মতো খরচ করে টানা ১ মাস ওর চিকিৎসা করতে থাকি, অবশেষে ১ মাস পর বুধবার (২৪ জুন ২০২৬ ইং) তারিখ বিকালে ওর মৃত্যু ঘটে। আমার বড় ছেলে ঘটনায় জড়িত নবীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমি আমার ছেলের সাথে ঘটনা যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, মে মাসের শেষ সপ্তাহে ভিকটিম সৈকতের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা জানার পর থেকে যোগাযোগ রাখি। সর্বশেষ, গত বুধবার ( ২৪ জুন, ২০২৬ ইং) তারিখ বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈকত নামের ওই যুবক মারা যায়। খবর শুনে তাৎক্ষনিক খুমেক হাসপাতালে যায় প্রাথমিক সুরতহাল, ময়নাতদন্ত ও সকল আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকালে নিহতের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ভিকটিমের বড় ভাই বাদী হয়ে এজাহারে ৫ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত, বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে মামলাটির তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, আসামীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছি এবং আটকে অভিযান অব্যহত আছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা ওসি (তদন্ত) এ.এফ.এম জাহিদুল ইসলাম জানান, দৌলতপুর থানাধীন দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকার সৈকত নামের এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত হয়। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় তার বড় বাদী হয়ে আত্মহত্যার সহয়তার অপরাধের অভিযোগ ৫ জন আসামীর নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে, আশাবাদী দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামীদের আটকে আমরা সক্ষম হবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button