সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দখল-লুটপাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দখল, লুটপাট, হামলা, চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী খাদিজা বেগম (৩৮)।
শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। খাদিজা বেগম খুলনা মহানগরের খালিশপুর থানাধীন পোর্ট কলোনি বন্ধ গেট সংলগ্ন কাদের সরদারপাড়ার বাসিন্দা এবং আলাউদ্দিন ভূইয়া ও সাহেরা বেগমের মেয়ে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের বরাদ্দকৃত প্লট নং-১০২ ও ১০৩-এর জলাশয় বৈধ চুক্তির মাধ্যমে লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করে আসছিলেন। এ জন্য তিনি বার্ষিক ১৩ হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দেন। একইসঙ্গে জলাশয়ের পাশে একটি টং দোকানে মুদি ব্যবসা পরিচালনা করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।
তিনি অভিযোগ করেন, একই এলাকার মালেক মিয়া (৫৫), আশিকুর রহমান অশোক (৫৩), বাবলু (৪৬) এবং জাহাঙ্গীর ওরফে কালা জাহাঙ্গীর (৪০) জোরপূর্বক তার লিজকৃত জলাশয় দখল করে নেয়। এ সময় ঘেরে থাকা প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের মাছ বিক্রি করে দেয় এবং পরবর্তীতে পুরো জলাশয় নিজেদের দখলে নিয়ে ভোগদখল করে আসছে। এ বিষয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেও তিনি কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে খাদিজা বেগম আরও বলেন, অভিযুক্তরা নিয়মিত তার কাছে মাসিক চাঁদা দাবি করত। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে।
তিনি অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে চাঁদা না দেওয়ায় তার ভগ্নিপতি মো. কামাল মুন্সীকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও চুলের মুঠি ধরে মারধর করা হয়। এ সময় তার পুত্রবধূ এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় এবং তার পরনের ওড়না ও জামাকাপড় টেনে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খাদিজা বেগমের দাবি, হামলাকারীরা দোকান থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের মুদি মালামাল ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় থানায় অভিযোগ করলে প্রাণে হত্যার পাশাপাশি বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি জেলা প্রশাসক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তার বৈধ লিজকৃত জলাশয় দ্রুত উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়া, প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের মাছ ও লুট হওয়া মালামালের বিষয়ে
সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভুক্তভোগীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


